শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ০৩:৫৯ অপরাহ্ন

মোটরসাইকেলে ২ লিটারের বেশি তেল নয়
নিজস্ব প্রতিবেদক: / ১১ বার দেখা হয়েছে
আপডেট শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০২৬
মোটরসাইকেলে ২ লিটারের বেশি তেল নয়।
মোটরসাইকেলে ২ লিটারের বেশি তেল নয়। ছবি: AI

Views: 5

৪২

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার প্রভাবে বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ার পাশাপাশি সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাংলাদেশেও জ্বালানি তেলের সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের অভ্যন্তরীণ মজুত ধরে রাখতে এবং জনমনে তৈরি হওয়া আতঙ্ক নিরসনে জ্বালানি তেল সরবরাহের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। ফিলিং স্টেশনগুলোতে উপচে পড়া ভিড় সামাল দিতে এবং তেলের অপচয় রোধে এখন থেকে যানবাহনভেদে তেল বিক্রির নির্দিষ্ট সীমা বা রেশনিং ব্যবস্থা কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিপিসির নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে একটি মোটরসাইকেল দিনে সর্বোচ্চ ২ লিটার পেট্রল বা অকটেন সংগ্রহ করতে পারবে। ব্যক্তিগত গাড়ি বা কারের ক্ষেত্রে এই সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে সর্বোচ্চ ১০ লিটার। এছাড়া এসইউভি, জিপ এবং মাইক্রোবাসের জন্য প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ লিটারের বেশি তেল সরবরাহ করা হবে না। শুধু ব্যক্তিগত যানবাহনই নয়, বাণিজ্যিক ও গণপরিবহনের ক্ষেত্রেও কঠোরতা অবলম্বন করা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, একটি লোকাল বাস বা পিকআপ দিনে ৭০ থেকে ৮০ লিটার ডিজেল পাবে। অন্যদিকে দূরপাল্লার বড় বাস, ট্রাক বা কাভার্ডভ্যান দৈনিক ২০০ থেকে ২২০ লিটারের বেশি জ্বালানি কোনো অবস্থাতেই গ্রহণ করতে পারবে না।

জ্বালানি বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিপিসি আরও জানিয়েছে, ফিলিং স্টেশন থেকে তেল নেওয়ার সময় প্রত্যেক ভোক্তাকে অবশ্যই ডিজিটাল বা হাতে লেখা রসিদ গ্রহণ করতে হবে। পরবর্তী সময়ে যখনই কোনো যানবাহন চালক তেল কিনতে আসবেন, তাকে পূর্বের ক্রয়ের রসিদটি প্রমাণ হিসেবে দেখাতে হবে। একইসাথে ডিলারদের ক্ষেত্রেও নিয়ম কড়াকড়ি করা হয়েছে। এখন থেকে ডিলাররা তাদের বর্তমান মজুত এবং প্রতিদিনের বিক্রির সঠিক তথ্য প্রদান সাপেক্ষে ডিপো থেকে তেল সংগ্রহ করতে পারবেন। কোনো অবস্থাতেই নির্ধারিত বরাদ্দের অতিরিক্ত জ্বালানি কোনো ডিলারকে প্রদান করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। মূলত বাজারে কৃত্রিম সংকট রোধ করতেই এই কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

জ্বালানি তেলের এই সীমিত সরবরাহের খবরে দেশের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। অনেক চালক আতঙ্কিত হয়ে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল মজুতের চেষ্টা করছেন, যা সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে। বিপিসি কর্তৃপক্ষ দেশবাসীকে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছে যে, সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ভবিষ্যতে এই সীমা শিথিল করা হতে পারে। তবে বর্তমানে জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই রেশনিং মেনে চলা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে তদারকি জোরদার করা হয়েছে যাতে কেউ নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে অতিরিক্ত তেল বিক্রি করতে না পারে।

জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলার এই প্রাথমিক পদক্ষেপ সাময়িক ভোগান্তি তৈরি করলেও দেশের অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এটি জরুরি। সরকারি নির্দেশনা মেনে তেল ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়া এখন প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও
Popular Post
Last Update
PhotoCard Icon
Create PhotoCard