প্রিন্ট এর তারিখঃ বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ২৯ বৈশাখ ১৪৩৩

অব্যবহৃত ৬ শিশু হাসপাতাল চালুর নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের শিশু স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এবং স্বাস্থ্য খাতের অচলাবস্থা নিরসনে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিগত ১২ এপ্রিল দেশের শীর্ষস্থানীয় একটি গণমাধ্যমে ‘৩২০ কোটি টাকা খরচে ৬ শিশু হাসপাতালের ভবন পড়ে আছে’ শীর্ষক একটি চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিগোচর হওয়ার পর তিনি দেশের রংপুর, খুলনা, রাজশাহী, বরিশাল, সিলেট ও কুমিল্লায় নির্মিত আধুনিক ছয়টি হাসপাতাল ভবন বছরের পর বছর অব্যবহৃত পড়ে থাকার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় নির্মিত এই বিশাল অবকাঠামো কেন জনসেবায় আসছে না, তা নিয়ে তিনি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের তাগিদ দেন।

এই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত এবং স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি জরুরি বৈঠক করেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত কঠোর ভাষায় নির্দেশনা প্রদান করেন যে, অনতিবিলম্বে এই ছয়টি হাসপাতাল পরিদর্শন করে তা জনসাধারণের চিকিৎসার জন্য উন্মুক্ত করতে হবে। তিনি কেবল মৌখিক নির্দেশ দিয়েই ক্ষান্ত হননি, বরং আগামী ২ জুন ২০২৬ তারিখের মধ্যে এই নির্দেশনার বাস্তবায়ন ও অগ্রগতির সার্বিক প্রতিবেদন তাঁর দপ্তরে পেশ করার জন্য সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম রনি গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বৈঠকের আলোচনায় কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রসঙ্গটি বিশেষভাবে উঠে আসে। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন যে, বর্তমানে আংশিক চালু থাকা ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট এই হাসপাতালটিকে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ রূপ দিয়ে পূর্ণ সক্ষমতায় চালু করতে হবে। এছাড়াও রাজধানীর শাহবাগে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালসহ অন্যান্য থমকে থাকা স্বাস্থ্য প্রকল্পগুলো দ্রুত কার্যকর করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, জনগণের দোরগোড়ায় আধুনিক চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে কোনো ধরনের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা বা দীর্ঘসূত্রতা সহ্য করা হবে না।

উত্তরাঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে নীলফামারীতে ১ হাজার শয্যাবিশিষ্ট প্রস্তাবিত বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী হাসপাতালের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও প্রধানমন্ত্রী বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে চীনা দূতাবাসকে সম্পৃক্ত করে এই মেগা প্রকল্পের কাজ দ্রুত শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। নীলফামারী সদর উপজেলায় নির্মিতব্য এই হাসপাতালটি বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের ‘প্রতিটি জেলায় আধুনিক সেকেন্ডারি স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট প্রতিষ্ঠা’র লক্ষ্যের সাথে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ। স্বাস্থ্য সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী জানান, প্রায় ২ কোটি জনগোষ্ঠীর এই উত্তরাঞ্চলে উন্নত স্বাস্থ্যসেবার অভাব দীর্ঘদিনের। এই হাসপাতালটি নির্মিত হলে এটি একটি আঞ্চলিক রেফারেল কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে এবং জটিল রোগের চিকিৎসার জন্য মানুষকে আর রাজধানীমুখী হতে হবে না।

প্রধানমন্ত্রীর এই সময়োপযোগী ও কৌশলগত পদক্ষেপ দেশের ভঙ্গুর স্বাস্থ্য কাঠামোকে শক্তিশালী করবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। বিশেষ করে শিশু হাসপাতালগুলো সচল হলে দেশের মা ও শিশু মৃত্যুর হার হ্রাসে এটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।

Web: www.banglanewstv.net G-mail: banglanewstv17@gmail.com

প্রিন্ট করুন