মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার প্রথম টেস্ট এক রোমাঞ্চকর পরিণতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে স্বাগতিক বাংলাদেশ পাকিস্তানের চেয়ে ৩৪ রানে এগিয়ে থেকে মাঠ ছেড়েছে। হাতে ১০ উইকেট অক্ষত থাকলেও পাকিস্তানকে বড় টার্গেট ছুঁড়ে দিতে হলে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটারদের কাঁধে গুরুদায়িত্ব দেখছেন টাইগার স্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজ। ম্যাচে ৫ উইকেট শিকার করা এই অলরাউন্ডার মনে করেন, চতুর্থ ও পঞ্চম দিনে মিরপুরের উইকেট কঠিন হয়ে উঠবে, তাই জয়ের জন্য একটি লড়াই করার মতো স্কোর গড়া এখন সময়ের দাবি।
ম্যাচের গতিপ্রকৃতি লক্ষ্য করলে দেখা যায়, প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ৪১৩ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করালেও পাকিস্তান শক্ত জবাব দিচ্ছিল। দ্বিতীয় দিন শেষে পাকিস্তান ১ উইকেটে ১৭৯ রান তুলে স্বাগতিকদের লিড টপকে যাওয়ার জোরালো ইঙ্গিত দিয়েছিল। তবে তৃতীয় দিন সকালে বাংলাদেশের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং ও মেহেদি মিরাজের বিধ্বংসী ঘূর্ণিতে ম্যাচের চিত্র বদলে যায়। ৩৮৬ রানেই গুটিয়ে যায় পাকিস্তানের প্রথম ইনিংস, যার ফলে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ ২৭ রানের লিড পায়। সেই লিডকে সঙ্গী করে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে বিনা উইকেটে ৭ রান তুলে তৃতীয় দিন শেষ করেছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।
ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে নিজের পারফরম্যান্স ও দলের পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন মিরাজ। তিনি বলেন, ম্যাচ এখন পঞ্চাশ-পঞ্চাশ অবস্থানে রয়েছে। হাতে দুই দিন সময় থাকলেও আমাদের লিড খুব বেশি বড় নয়। তাই দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটারদের অনেক বেশি দায়িত্বশীল হতে হবে। মিরপুরের উইকেটে চতুর্থ বা পঞ্চম দিনে ব্যাটিং করা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হবে। আমার ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এই উইকেটে ২৯০ থেকে ৩০০ রানের একটি পুঁজি বোলারদের লড়াই করার জন্য যথেষ্ট হবে। তবে সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে টপ অর্ডার থেকে শুরু করে সবাইকে উইকেটে টিকে থাকার মানসিকতা দেখাতে হবে।
পাকিস্তানের প্রথম ইনিংস ধসিয়ে দিতে মিরাজ ৩৮ ওভার বল করে ১০২ রান খরচায় ৫ উইকেট শিকার করেন। এটি তার ৫৭ ম্যাচের টেস্ট ক্যারিয়ারে ১৪তম বারের মতো ইনিংসে ৫ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব। নিজের বোলিংয়ের উন্নতি নিয়ে মিরাজ জানান, পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ড সিরিজের সময় থেকেই তিনি বোলিং নিয়ে প্রচুর কাজ করেছেন এবং সেই ধারাবাহিকতা তাকে আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে। তাসকিন আহমেদের সাথে তার বোলিং জুটি পাকিস্তানের ব্যাটারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছিল। মিরাজ বিশেষভাবে হাসান মাহমুদের (রানা) ব্রেক-থ্রু প্রদানের প্রশংসা করেন, যা দলের জন্য টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে কাজ করেছে।
মিরপুর টেস্টে জয়ের পাল্লা বর্তমানে সাম্যাবস্থায় থাকলেও চতুর্থ দিনের প্রথম সেশন নির্ধারণ করে দেবে ম্যাচের ভবিষ্যৎ। টাইগার ব্যাটাররা যদি মিরাজের প্রত্যাশা অনুযায়ী বড় স্কোর গড়তে পারেন, তবে মিরপুরের ঘূর্ণি উইকেটে পাকিস্তানকে আটকানো বাংলাদেশের জন্য সহজ হবে।

স্পোর্টস ডেস্ক