সারাদেশে একযোগে ঘোষিত কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে উখিয়ার পালংখালীতে পেশার মর্যাদা রক্ষা এবং ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিতে এক বিশাল মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১১ মে, ২০২৬) সকালে পালংখালী মডেল ফারিয়া (বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যালস রিপ্রেজেন্টেটিভস অ্যাসোসিয়েশন)-এর উদ্যোগে স্থানীয় একটি কমিউনিটি সেন্টারের সামনে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচিতে পালংখালী ও উখিয়া এলাকার বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির বিপুল সংখ্যক প্রতিনিধি স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। তাদের দাবি, দিন-রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করেও তারা প্রাপ্য মর্যাদা এবং কাজের পরিবেশ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
মানববন্ধন ও সমাবেশে উপস্থিত বক্তারা তাদের ন্যায্য দাবির সপক্ষে অত্যন্ত যুক্তিসঙ্গত ও গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন। তারা ওষুধ প্রতিনিধিদের চাকুরির জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন, বর্তমান বাজারমূল্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে বেতন-ভাতা বৃদ্ধি এবং কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ওষুধ কোম্পানিগুলোর প্রতি জোর দাবি জানান। বক্তারা বলেন, মানুষের দোরগোড়ায় জীবন রক্ষাকারী ওষুধ পৌঁছে দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করলেও তাদের পেশার সুনির্দিষ্ট রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি বা কোনো নীতিমালা নেই, যা তাদের চরম বৈষম্যের শিকার করছে। তারা একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও চাকুরির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
পালংখালী মডেল ফারিয়ার সাধারণ সম্পাদক তার বক্তব্যে বলেন: “আমরা দিন-রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে মানুষের দোরগোড়ায় জীবন রক্ষাকারী ওষুধ পৌঁছে দেই। অথচ আমাদের পেশার কোনো রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি বা সুনির্দিষ্ট নীতিমালা নেই। আমরা আজ রাজপথে নেমেছি আমাদের হারানো মর্যাদা ফিরে পেতে এবং একটি বৈষম্যহীন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে। চাকুরির নিরাপত্তা ছাড়া আমরা কাজ করতে পারি না।”
সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক তার বক্তব্যে বলেন: “বর্তমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে একজন ওষুধ প্রতিনিধিকে নামমাত্র বেতনে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বর্তমান বেতন কাঠামো পুনর্নির্ধারণ আমাদের জন্য অপরিহার্য। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই শান্তিপূর্ণ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।” অর্থ সম্পাদক মোহাম্মদ মুছা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন: “কর্মক্ষেত্রে আমরা প্রায়শই নানা হয়রানির শিকার হই। আমাদের জন্য কোনো নির্ধারিত কর্মঘণ্টা নেই। রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে কাজ করি, তাই আমাদের সামাজিক নিরাপত্তা ও সম্মানজনক কর্মপরিবেশ পাওয়া আমাদের অধিকার।” সমাবেশ শেষে একটি প্রতিনিধি দল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বরাবর স্মারকলিপি প্রদানের ঘোষণা দেন।
উখিয়ার পালংখালীতে ওষুধ প্রতিনিধিদের এই বিশাল মানববন্ধন ও সমাবেশ তাদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও দাবিগুলো সামনে নিয়ে এসেছে। একটি রাষ্ট্রের জন্য ওষুধ প্রতিনিধিদের নিরাপদ কাজের পরিবেশ ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত অপরিহার্য। কর্তৃপক্ষ এই দাবিগুলো ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে এবং দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

মোঃ হারুন অর রশিদ, উখিয়া (কক্সবাজার)