প্রিন্ট এর তারিখঃ বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ২৯ বৈশাখ ১৪৩৩

ব্যবহৃত টিস্যু পকেটে রাখি, পরিবেশ রক্ষা আমাদের অভ্যাসের প্রতিফলন: গাজীপুরের জেলা প্রশাসক

গাজীপুর ভাওয়াল সম্মেলন কক্ষে পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়ক সভায় বক্তব্য রাখছেন জেলা প্রশাসক নূরুল করিম ভূঁইয়া।
রাজু হাসান, স্টাফ রিপোর্টার

পরিবেশ সংরক্ষণ কেবল তাত্ত্বিক আলোচনার বিষয় নয়, বরং এটি মানুষের দৈনন্দিন অভ্যাসের প্রতিফলন—এমন মন্তব্য করেছেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক জনাব নূরুল করিম ভূঁইয়া। মঙ্গলবার (১২ মে) ভাওয়াল সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি নিজের যাপিত জীবনের ছোট কিন্তু অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ কিছু ব্যক্তিগত সুঅভ্যাসের কথা তুলে ধরেন। পরিবেশ অধিদপ্তরের ‘মনিটরিং এন্ড এনফোর্সমেন্ট উইং এর সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণ ও মান উন্নয়ন এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এই সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো: লুৎফর রহমান।

জেলা প্রশাসক নূরুল করিম ভূঁইয়া নাগরিকদের ব্যক্তিগত সচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, “পরিবেশ রক্ষা কোনো তাত্ত্বিক কথা নয়। আমি যেখানেই যাই, আমার ব্যবহৃত টিস্যুগুলো পকেটে রেখে দেই এবং বাসায় ফেরার পর নির্দিষ্ট ডাস্টবিনে ফেলি।” তিনি মনে করেন, এমন ছোট ছোট অভ্যাসই বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে সক্ষম। শব্দ দূষণ রোধে নিজের সচেতনতার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “শব্দ দূষণ রোধে আমি সবসময় আমার ফোন সাইলেন্ট রাখি যাতে কারো কষ্ট না হয়।” তিনি সবাইকে মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করে সুঅভ্যাস গড়ে তোলার উদাত্ত আহ্বান জানান।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে জেলা প্রশাসক পরিবেশের ওপর মানুষের নিষ্ঠুর আচরণের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলেন, “সব ধর্মেই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। যারা কলকারখানায় ইটিপি (ETP) ব্যবহার করছে না, অযথা গাড়ির হর্ন বাজাচ্ছেন কিংবা যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলছেন, তারা মূলত মানুষরূপী চতুষ্পদ প্রাণী।” তাঁর এই মন্তব্য উপস্থিত সুধীজনের মাঝে পরিবেশ রক্ষায় দায়িত্বশীল হওয়ার প্রয়োজনীয়তাকে নতুন করে উপলব্ধি করতে সহায়তা করে।

আলোচনা সভায় বক্তারা জলবায়ু পরিবর্তন, বায়ুদূষণ ও প্লাস্টিক বর্জ্যের ভয়াবহতা নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন। তারা সতর্ক করে বলেন, এখনই সচেতন না হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে চরম মূল্য দিতে হবে। পরিবেশগত সংকট মোকাবিলায় বেশি বেশি গাছ লাগানো এবং প্লাস্টিক বর্জন করে পরিবেশবান্ধব জীবনযাপনের ওপর সভায় বিশেষ জোর দেওয়া হয়। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মনিটরিং এন্ড এনফোর্সমেন্ট উইং এর পরিচালক সৈয়দ ফরহাদ হোসেন এবং উপপরিচালক সৈয়দ আহম্মদ কবীর। এছাড়াও গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ শাহরিয়ার নজিরসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও পরিবেশকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আরেফিন বাদল-এর চমৎকার সঞ্চালনায় সভাটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। সভার সমাপনী বক্তব্যে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, জেলা প্রশাসকের ব্যক্তিগত অভ্যাসের এই গল্প উপস্থিত সবাইকে নিজেদের জীবনধারা পরিবর্তন করে পরিবেশ রক্ষায় ব্রতী হতে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করবে।

ব্যক্তিগত অভ্যাস ও সচেতনতা না থাকলে আইনের মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষা করা দুরূহ। গাজীপুরের জেলা প্রশাসকের এই ব্যক্তিগত দৃষ্টান্ত আমাদের শিখিয়ে দেয় যে, পরিবেশের সুরক্ষা শুরু হয় নিজের ঘর এবং পকেট থেকেই।

Web: www.banglanewstv.net G-mail: banglanewstv17@gmail.com

প্রিন্ট করুন