কক্সবাজারের উখিয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ‘হা হা’ রিয়েক্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপি-ছাত্রদল ও স্থানীয়দের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘর্ষে ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ছৈয়দা বেগম (৪৫) নামে এক নারী। গত শনিবার রাত আটটার দিকে উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়নের টাইপালং এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রমতে, ঘটনার কয়েকদিন আগে টাইপালং মাদরাসার দেয়ালে ‘জয় বাংলা’ লেখা নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এরই মধ্যে শনিবার রাতে স্থানীয় ছাত্রদল নেতা জিসানের একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসে ইউনুস নামে এক যুবক ‘হা হা’ রিয়েক্ট দেন। এই তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়, যা দ্রুতই ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে রূপ নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষ চলাকালীন বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ইউনুসকে মারধর শুরু করলে তার বন্ধু এস এম ইমরান তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন। এসময় ইমরানকেও বেধড়ক পেটানো হয়। খবর পেয়ে ইমরানের মা ছৈয়দা বেগম ঘটনাস্থলে ছুটে এসে ছেলেকে রক্ষা করার চেষ্টা করলে হামলাকারীরা তাকেও মারধর করে। একপর্যায়ে তিনি গুরুতর আহত হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। তাকে উদ্ধার করে উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, স্থানীয় বিএনপি নেতা মিজান সিকদার, আব্দুল করিমসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীর নেতৃত্বে এই পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে।
অন্যদিকে, জাতীয় ছাত্রশক্তি কক্সবাজার জেলার মুখপাত্র জিনিয়া সারমিন রিয়া দাবি করেছেন: নিহতের ছেলে ইমরান কোনো রাজনৈতিক অস্থিরতার অংশ নয়, বরং তিনি একজন ‘জুলাই যোদ্ধা’। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে ইমরানকে ‘ছাত্রলীগের দোসর’ হিসেবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। ইমরান দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় কিছু নেতাকর্মীর নির্যাতনের শিকার হয়ে বাড়িছাড়া ছিলেন।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান জানিয়েছেন: “মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে।”
এদিকে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ইউনুসকে হেফাজতে নিলেও হামলার অভিযোগে অভিযুক্ত বিএনপি বা ছাত্রদলের কোনো নেতাকর্মীকে এখন পর্যন্ত আটক করা সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে।
এই ঘটনার পর থেকে টাইপালং এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, দ্রুত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা না হলে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।

মোঃ হারুন অর রশিদ, উখিয়া, কক্সবাজার