ঈদুল আজহার টানা মাংস খাওয়ার ক্লান্তি আর অলসতা কাটাতে এক ভিন্নধর্মী ও প্রাণবন্ত রম্য বিতর্কের আয়োজন করেছে সামাজিক ও সেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘শ্যাডো অব চেঞ্জ’ (SOC)। ১ লা জুন (২০২৬ খ্রি.) বিকাল ৪:০০ টায় কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার পালংখালী উচ্চ বিদ্যালয় মিলনায়তনে এই উৎসবমুখর বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও আড্ডা অনুষ্ঠিত হয়।
রসালো ও বুদ্ধিদীপ্ত এই বিতর্কের মূল বিষয় ছিল— “ঈদের পঞ্চম দিনে এসে সালাদ ও ডাল-ভাতকে অমৃত মনে হওয়া- এটি জিহ্বার আত্মসমর্পণ নাকি গরুর মাংসের প্রতি চরম বিশ্বাসঘাতকতা?”
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কামরুল ইসলাম সুমন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফারিরবিল মিনহাজুল কোরআন আলিম মাদ্রাসার পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও জেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এম মোক্তার আহমেদ।
যুক্তির কাঁটাছেঁড়া ও রসবোধের এই লড়াইয়ে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন: নুর হোসাইন, সহকারী অধ্যাপক, চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজ। সাইফুল্লাহ খালেদ, আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট। হাকিম আলী চৌধুরী, অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
এছাড়াও আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষাবিদ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ; যাদের মধ্যে অন্যতম— পালংখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও শিক্ষক প্রতিনিধি নূরুল আলম, সহকারী শিক্ষক আলী হোসাইন, আঞ্জুমানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ শাহজাহান, পালংখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক দেলোয়ার ইবনে কামাল এবং লেখক ও সাহিত্যিক সানা উল্লাহ।
বিতর্কের মূল পর্বে ‘জিহ্বার আত্মসমর্পণ’ তথা সালাদ ও ডাল-ভাতের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে। অন্যদিকে, ‘গরুর মাংসের প্রতি চরম বিশ্বাসঘাতকতা’র যুক্তি নিয়ে মাঠ কাঁপায় পালংখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের ব্যাচ-২৬ এর নারী বিতার্কিকদের নিয়ে গঠিত ‘বিপক্ষদল’।
পক্ষদলের বিতার্কিকরা হলো: জামাল উদ্দিন, সোহান আবরার, ফয়সাল আহমেদ, তাওহিদুল ইসলাম এবং নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোসাদ্দেক শাহরিয়ার কাউছার।
বিপক্ষদলের বিতার্কিকরা হলো: মারওয়া ওসমান তাহিয়া, নাওরিন মরিয়ম, তাসপিয়া আলম তাসিন, তুপা এবং রোজা ইজমা তানহা।
কড়া যুক্তি, হাস্যরস আর উপস্থিত বুদ্ধির চমৎকার প্রদর্শনীতে বিচারকদের রায়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে বিপক্ষদল (মাংসের পক্ষ)। রানার্সআপ ট্রফি জিতে নেয় পক্ষদল (ডাল-ভাত ও সালাদের পক্ষ)।
প্রতিযোগিতায় অসামান্য নেতৃত্ব দিয়ে শ্রেষ্ঠ দলনেতা নির্বাচিত হন রোজা ইজমা তানহা, এবং যুক্তি ও বাচনভঙ্গিতে সবাইকে মুগ্ধ করে শ্রেষ্ঠ বক্তার পুরস্কার লুফে নেন মারওয়া ওসমান তাহিয়া।
আয়োজক সংগঠন ‘Shadow of Change (SOC)’-এর প্রতিনিধিরা জানান, ঈদের ছুটির আমেজে তরুণ প্রজন্মের মেধা বিকাশ, রসবোধ ও যুক্তিবাদী মানসিকতা তৈরি করতেই এই ব্যতিক্রমী রম্য বিতর্কের আয়োজন করা হয়েছিল। স্থানীয় সুধীসমাজ ও তরুণদের বিপুল উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি একটি উৎসবমুখর মিলনমেলায় পরিণত হয়।

মোঃ হারুন অর রশিদ - উখিয়া, (কক্সবাজার)