প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

উখিয়ায় ‘শ্যাডো অব চেঞ্জ’-এর ব্যতিক্রমী রম্য বিতর্ক: জয়ী মাংসের রাজত্ব, রানার্সআপ ডাল-ভাত ও সালাদ‎

মোঃ হারুন অর রশিদ - উখিয়া, (কক্সবাজার)

ঈদুল আজহার টানা মাংস খাওয়ার ক্লান্তি আর অলসতা কাটাতে এক ভিন্নধর্মী ও প্রাণবন্ত রম্য বিতর্কের আয়োজন করেছে সামাজিক ও সেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘শ্যাডো অব চেঞ্জ’ (SOC)। ১ লা জুন (২০২৬ খ্রি.) বিকাল ৪:০০ টায় কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার পালংখালী উচ্চ বিদ্যালয় মিলনায়তনে এই উৎসবমুখর বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও আড্ডা অনুষ্ঠিত হয়।
‎
‎রসালো ও বুদ্ধিদীপ্ত এই বিতর্কের মূল বিষয় ছিল— “ঈদের পঞ্চম দিনে এসে সালাদ ও ডাল-ভাতকে অমৃত মনে হওয়া- এটি জিহ্বার আত্মসমর্পণ নাকি গরুর মাংসের প্রতি চরম বিশ্বাসঘাতকতা?”
‎
‎অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কামরুল ইসলাম সুমন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফারিরবিল মিনহাজুল কোরআন আলিম মাদ্রাসার পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও জেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এম মোক্তার আহমেদ।
‎
‎যুক্তির কাঁটাছেঁড়া ও রসবোধের এই লড়াইয়ে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন: নুর হোসাইন, সহকারী অধ্যাপক, চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজ। সাইফুল্লাহ খালেদ, আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট। হাকিম আলী চৌধুরী, অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
‎
‎এছাড়াও আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষাবিদ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ; যাদের মধ্যে অন্যতম— পালংখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও শিক্ষক প্রতিনিধি নূরুল আলম, সহকারী শিক্ষক আলী হোসাইন, আঞ্জুমানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ শাহজাহান, পালংখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক দেলোয়ার ইবনে কামাল এবং লেখক ও সাহিত্যিক সানা উল্লাহ।
‎
‎বিতর্কের মূল পর্বে ‘জিহ্বার আত্মসমর্পণ’ তথা সালাদ ও ডাল-ভাতের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে। অন্যদিকে, ‘গরুর মাংসের প্রতি চরম বিশ্বাসঘাতকতা’র যুক্তি নিয়ে মাঠ কাঁপায় পালংখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের ব্যাচ-২৬ এর নারী বিতার্কিকদের নিয়ে গঠিত ‘বিপক্ষদল’।
‎
‎পক্ষদলের বিতার্কিকরা হলো: জামাল উদ্দিন, সোহান আবরার, ফয়সাল আহমেদ, তাওহিদুল ইসলাম এবং নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোসাদ্দেক শাহরিয়ার কাউছার।
‎বিপক্ষদলের বিতার্কিকরা হলো: মারওয়া ওসমান তাহিয়া, নাওরিন মরিয়ম, তাসপিয়া আলম তাসিন, তুপা এবং রোজা ইজমা তানহা।
‎
‎কড়া যুক্তি, হাস্যরস আর উপস্থিত বুদ্ধির চমৎকার প্রদর্শনীতে বিচারকদের রায়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে বিপক্ষদল (মাংসের পক্ষ)। রানার্সআপ ট্রফি জিতে নেয় পক্ষদল (ডাল-ভাত ও সালাদের পক্ষ)।
‎
‎প্রতিযোগিতায় অসামান্য নেতৃত্ব দিয়ে শ্রেষ্ঠ দলনেতা নির্বাচিত হন রোজা ইজমা তানহা, এবং যুক্তি ও বাচনভঙ্গিতে সবাইকে মুগ্ধ করে শ্রেষ্ঠ বক্তার পুরস্কার লুফে নেন মারওয়া ওসমান তাহিয়া।
‎
‎আয়োজক সংগঠন ‘Shadow of Change (SOC)’-এর প্রতিনিধিরা জানান, ঈদের ছুটির আমেজে তরুণ প্রজন্মের মেধা বিকাশ, রসবোধ ও যুক্তিবাদী মানসিকতা তৈরি করতেই এই ব্যতিক্রমী রম্য বিতর্কের আয়োজন করা হয়েছিল। স্থানীয় সুধীসমাজ ও তরুণদের বিপুল উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি একটি উৎসবমুখর মিলনমেলায় পরিণত হয়।

Web: www.banglanewstv.net G-mail: banglanewstv17@gmail.com

প্রিন্ট করুন