গাজীপুর মহানগরীর ব্যস্ততম চৌরাস্তা এলাকায় এক নজিরবিহীন ও অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক অপরাধের ঘটনা ঘটেছে। নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা একটি সরকারি পুলিশ বক্সে প্রকাশ্য দিবালোকে প্রবেশ করে ‘স্টার নিউজ’-এর গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি হোসেন আলী বাবুর ওপর বর্বর ও অতর্কিত হামলা চালিয়েছে এক সন্ত্রাসী। এই পৈশাচিক হামলার ঘটনার পরপরই উক্ত পুলিশ বক্সে কর্তব্যরত এক পুলিশ সদস্য এবং স্থানীয় সচেতন জনতার সহায়তায় সাংবাদিককে রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। একই সাথে ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত ও অভিযুক্ত মোহাম্মদ জুয়েল নামের এক ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ প্রশাসন।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটি কাটিয়ে সাধারণ মানুষের কর্মস্থলে ফেরার নানামুখী খবর ও ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করছিলেন ভুক্তভোগী পেশাদার সাংবাদিক হোসাইন আলী বাবু। তিনি মাঠপর্যায়ের লাইভ সম্প্রচার শেষ করে গাজীপুর চৌরাস্তা পুলিশ বক্সের ভেতরে বসে অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে নিজের অফিসের জরুরি কাজ করছিলেন। ঠিক সেই সময় কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই এক যুবক পুলিশ বক্সের ভেতরে প্রবেশ করে তাঁর ওপর অতর্কিত ও নৃশংস হামলা চালায়। সাংবাদিকের আকস্মিক চিৎকারের শব্দ শুনে বক্সে ডিউটিরত এক পুলিশ সদস্য দ্রুত ছুটে গিয়ে তাকে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে উদ্ধার করেন। পরবর্তীতে উপস্থিত স্থানীয় লোকজনের সর্বাত্মক সহযোগিতায় হামলাকারীকে অবরুদ্ধ করে থানায় সোপর্দ করা হয়, যার নাম মোহাম্মদ জুয়েল। স্থানীয়দের প্রাথমিক ধারণা, ধৃত ওই ব্যক্তি পেশাদার ছিনতাই চক্রের সাথে জড়িত এবং এই বর্বরোচিত হামলার আসল রহস্য উদঘাটনে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
লোমহর্ষক এই হামলার বিষয়ে ভুক্তভোগী সাংবাদিক হোসাইন আলী বাবু গণমাধ্যমকর্মীদের নিকট তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি সকাল থেকেই গাজীপুর চৌরাস্তায় ঈদে ছুটি শেষে মানুষের ফেরার সংবাদ সংগ্রহে ব্যস্ত ছিলাম। হামলাকারী যুবকটি সকাল থেকে বেশ কয়েকবার আমার কাছে এসে আমার নাম জিজ্ঞেস করেছিল। কিন্তু আমি পেশাগত কাজে অতিরিক্ত ব্যস্ত থাকায় তখন তার সাথে বিস্তারিত কথা বলতে পারিনি। পরবর্তীতে আমি যখন নিরাপদ ভেবে চৌরাস্তা পুলিশ বক্সে বসে ল্যাপটপে অফিসের কাজ করছিলাম, তখন লোকটা হঠাৎ করেই ভেতরে ঢুকে কোনো কারণ ছাড়াই আমার ওপর হিংস্রভাবে হামলা চালায়। আমি সেই হামলাকারী ব্যক্তিকে এর আগে কোনোদিন দেখিনি এবং তার সাথে আমার পূর্বের কোনো শত্রুতা কিংবা সাধারণ পরিচয়ও নেই।’
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গাজীপুর চৌরাস্তার এক ব্যবসায়ী ও প্রত্যক্ষদর্শী জানান, গাজীপুর চৌরাস্তা এলাকায় অসংখ্য চিহ্নিত মাদকসেবী ও ছিনতাইকারীদের আনাগোনা থাকে। সুনির্দিষ্টভাবে তারাই এই নৃশংস হামলার সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত থাকতে পারে। কারণ, গাজীপুর চৌরাস্তায় কোনো সৎ সাংবাদিক অপরাধের তথ্য সংগ্রহ কিংবা সংবাদ করতে আসলেই তাদের কাজে চরমভাবে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে এই অপরাধী চক্রগুলো। এদিকে প্রকাশ্য দিবালোকে একটি সরকারি পুলিশ বক্সে ঢুকে একজন গণমাধ্যমকর্মীর ওপর এই ধরনের দুঃসাহসিক হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গাজীপুরের সর্বস্তরের পেশাদার সাংবাদিক সমাজ। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই কাপুরুষোচিত হামলার পেছনের মূল রহস্য উদঘাটন এবং এর সাথে ইন্ধনদাতা ও জড়িত অন্য সকল অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিকসহ সচেতন নাগরিক মহল।
একটি নিরাপদ পুলিশ বক্সের ভেতর ঢুকে প্রকাশ্য দিবালোকে সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সামগ্রিক নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি। পুলিশ প্রশাসন যেভাবে দ্রুততার সাথে মূল হামলাকারী জুয়েলকে হাতেনাতে আটক করেছে, ঠিক একইভাবে এর নেপথ্যের মূল কারণ ও অপরাধী সিন্ডিকেটের রহস্য দ্রুত উদঘাটন হবে বলে সচেতন মহল প্রত্যাশা করে।

রাজু হাসান, স্টাফ রিপোর্টার