সীমান্ত ঘেসা হাকিমপুর উপজেলায় চলতি মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়ায় আমের ফলন ভালো হয়েছে। কিন্তু আমের বাজার দর কম থাকায় তেমন লাভ করতে পারছেন না আম চাষিরা। অনেক বাগান ক্রেতা পড়েছেন লোকসানে। এবার হাকিমপুরে ৪৭ হেক্টর জমিতে আমের চাষ করা হয়েছে। যার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রতি হেক্টর ১২.৫৬ মেট্রিক টন। উপজেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৫ মে থেকে সব ধরনের গুটি আম পাড়া শুরু করেছেন বাগান মালিক ও চাষিরা।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, নানা জাতের আমে বাজার পরিপূর্ণ। গুটি জাতের আমের ভেতরে আটির কালুয়া ৪০ টাকা ও ৫০ টাকা এবং অন্যান্য জাতের আম ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। এখন কালুয়া জাতের আম শেষ পর্যায়ে। বাজারে এসেছে হাড়ি ভাংগা,নাকফজলি খিরসাপাতি আম।হাড়ি ভাংগা,নাকফজলি খিরসাপাতি ও ল্যাংড়া জাতের আম ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।আম ক্রেতা জামাল জানালেন, তিনি ৪৫ টাকা কেজি দরে নাকফজলি আম কিনেছেন। আমগুলো খেতে সুস্বাদু এবং আকারে বড়। তিনি আশা করছেন, এবার আমের ফলন ভালো। আমের দাম কিছুটা হলেও কম।
হাকিমপুর পৗরসভার গোহারা এলাকার বাসিন্দা আম চাষি নিরন্জন বলেন, তিনি ৬বিঘা জমিতে চার শতাধিক আমগাছ রয়েছে এ গুলির মধ্যে গৌরতি,আম্রপালি এবং বারিফোর জাতরে আম গাছ রয়েছে। অনুকূল আবহাওয়ায় এবার আমের ফলন হয়েছে ভালো। কিন্তু আমের ন্যায্য দাম পাচ্ছে না। তারপরে ও মনে দিতে হচ্ছে ৫ কেজি করে ঢলন। খুচরা ক্রেতারা সে ঢলন না পেলেও আমাদের দিতেই হচ্ছে। না হলে ব্যাপারীরা আম কিনতে চাচ্ছেন না। আড়তেও একই অবস্থা। ফলে আম ব্যবসায়ী-রা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।উপজেলার খট্রামাধবপাড়া এলাকার আম চাষি আব্দুর মান্নান বলেন, ‘তিনি পাঁচ বিঘা আমের বাগান কিনেছেন। এ বাগান থেকে ২ লাখ টাকা লাভের আশা করেছিলেন। কিন্তু বাজারে আমের দাম কম থাকায় তা হচ্ছে না। হাকিমপুর উপজেলা কৃষি অফিসার আরজেনা বেগম বলেন, ‘চলতি মৌসুমে হাকিমপুর উপ জেলায় আমের ফলন ভালো হয়েছে। প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ না হলে বাগান মালিক, চাষি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা লাভবান হবেন।উপ জেলায় এবার ৪৭ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে এবার প্রতি হেক্টর জমিতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ১২.৫৬ মেট্রিকটন।
২০২৬ সালের ‘ম্যাঙ্গো ক্যালেন্ডার’ অনুযায়ী, ১৫ মে থেকে সব ধরনের গুটি জাতের আম পাড়া ও বাজারজাত শুরু হয়েছে। এরপর ২৫ মে গোপালভোগ আম, ৩০ মে রাণী পছন্দ, খিরসাপাত, ২ জুন লক্ষণভোগ, ১২ জুন ন্যাংড়া, ১৫ জুন আম্রপালি, ২৫ জুন ফজলি, হাড়িভাঙ্গা ও মোহনভোগ, ৪ জুলাই মল্লিকা, ১০ জুলাই বারি-৪, ২০ জুলাই আশ্বিনা এবং গৌরমতি আম ১০ আগস্ট গাছ থেকে সংগ্রহের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

নুরুজ্জামান হোসেন হিলি প্রতিনিধি