প্রিন্ট এর তারিখঃ সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩

সাভারে অবৈধভাবে ব্যাটারি পুড়িয়ে সিসা উৎপাদন: হুমকির মুখে জনস্বাস্থ্য ও কৃষিজমি

​নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার:

ঢাকার সাভার উপজেলার ভাকুত্তা ইউনিয়নে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে আবাসিক এলাকা ও কৃষিজমির পাশে অবৈধভাবে পুরাতন ব্যাটারি পুড়িয়ে সিসা উৎপাদনের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ভাকুত্তা ইউনিয়নের আউয়াল মার্কেট এলাকায় গড়ে ওঠা এই কারখানা থেকে নির্গত বিষাক্ত কালো ধোঁয়া ও রাসায়নিক বর্জ্যে পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এতে একদিকে যেমন কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কায় তীব্র উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন এলাকাবাসী।

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভাকুত্তা আউয়াল মার্কেটের পূর্ব পাশে একটি ইটভাটা সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে এই কারখানাটি পরিচালিত হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের নজর এড়িয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ পরিত্যক্ত ব্যাটারি সংগ্রহ করে এখানে উচ্চ তাপমাত্রায় পোড়ানো হয় এবং তা থেকে সিসা আলাদা করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় কারখানাটি থেকে প্রতিনিয়ত ঘন কালো ধোঁয়ার পাশাপাশি সিসা ও অ্যাসিড মিশ্রিত ক্ষতিকর রাসায়নিক বর্জ্য নির্গত হচ্ছে, যা আশপাশের পরিবেশের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে।
​
​কারখানাটির কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা। তাদের অভিযোগ, কারখানার বিষাক্ত ধোঁয়া ও রাসায়নিক বর্জ্য আশপাশের বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে ফসলের উৎপাদন ও গুণগত মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বাতাসে ভাসমান সিসার কণা ও ক্ষতিকর গ্যাসের প্রভাবে ধানের শীষ ও বিভিন্ন শাকসবজি কালচে হয়ে যাচ্ছে এবং ফসলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে। এতে অনেক কৃষক বড় ধরনের আর্থিক লোকসানের মুখে পড়েছেন।

​পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি এই কারখানাটি স্থানীয় জনস্বাস্থ্যের জন্যও বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, ব্যাটারি পোড়ানোর সময় বাতাসে ছড়িয়ে পড়া সিসা (Lead) এবং সালফার ডাই-অক্সাইডের মতো উপাদান মানবদেহের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। এসব ক্ষতিকর উপাদানের দীর্ঘমেয়াদি সংস্পর্শে থাকলে: ​শ্বাসকষ্ট, চর্মরোগ ও ফুসফুসের জটিলতা দেখা দিতে পারে।
​কিডনি বিকল হওয়া এবং ক্যান্সারের মতো মারাত্মক রোগের ঝুঁকি বাড়ে।
​সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে শিশু ও গর্ভবতী মায়েরা। এর ফলে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।

​ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকা এবং ফসলি জমির এত কাছে কীভাবে এমন একটি অবৈধ ও পরিবেশদূষণকারী কারখানা দীর্ঘদিন ধরে চলছে, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে এলাকায় বড় ধরনের পরিবেশগত ও জনস্বাস্থ্য সংকট সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

​এই বিষয়ে ভাকুত্তা এলাকার ভুক্তভোগী বাসিন্দা মোঃ সোলায়মান হোসেনসহ স্থানীয় এলাকাবাসী পরিবেশ অধিদপ্তর এবং স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা অবিলম্বে এই অবৈধ কারখানাটি বন্ধ ও উচ্ছেদ করার দাবি জানিয়েছেন। একই সাথে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

Web: www.banglanewstv.net G-mail: banglanewstv17@gmail.com

প্রিন্ট করুন