বর্তমান সরকারের সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার একমাত্র উৎস হচ্ছে দেশের সাধারণ জনগণ। জনগণের সমর্থন যতক্ষণ থাকবে এবং দেশের মানুষ যতক্ষণ পাশে থাকবে, ততক্ষণ কোনো বাধাই বর্তমান বিএনপি সরকারকে দমাতে পারবে না। আমরা এই প্রিয় দেশটাকে নতুন করে পুনর্গঠন করতে চাই এবং বহুদূর সামনে এগিয়ে নিতে চাই। জনগণকে সঙ্গে নিয়েই এই রাষ্ট্রকে একদিন বিশ্বমঞ্চে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাব, ইনশাআল্লাহ। আজ সকালে বরিশালের গৌরনদীর বাটাজোর এলাকায় ফ্যামিলি কার্ড পাওয়া সুবিধাভোগী নারীদের সঙ্গে এক আবেগঘন ও উন্মুক্ত মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব কথা বলেন।
মতবিনিময় বক্তব্যের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত সুবিধাভোগী নারীদের অত্যন্ত স্নেহভরে কাছে ডেকে নেন এবং তাদের সার্বিক খোঁজখবর জানতে চান। তিনি সরাসরি নারীদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘আপনি ফ্যামিলি কার্ড পেয়েছেন? এই কার্ড নিয়ে আপনার কী কী উপকার হয়েছে?’ প্রধানমন্ত্রীর এমন আন্তরিক প্রশ্নের জবাবে পারুল আখতার নামে এক সাধারণ নারী সাহসের সঙ্গে মঞ্চে গিয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘এই কার্ড পেয়ে আমি অনেক উপকার পেয়েছি। আমার সংসারের দীর্ঘদিনের অভাব-অনটন দূর হয়েছে। আমি আশা করি, আগামীতেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের এভাবে সহযোগিতা করে যাবেন এবং আমাদের বিপদে-আপদে সবসময় আমাদের পাশে থাকবেন।’
উপস্থিত নারীদের বক্তব্য শোনার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘এখানে আজ প্রায় ৬০০-এর মতো পরিবার ফ্যামিলি কার্ড পেয়েছে। আমি জানি, এলাকায় আরও অনেক পরিবার আছে, যারা এখনও এই ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আসেনি বা কার্ড পায়নি। তবে আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই যে, আগামীতে তারাও এই কার্ড পাবে। দেশের প্রায় ৪ কোটি পরিবারের নারী প্রধানের হাতে ধীরে ধীরে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। আমাদের সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে যে, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের সকল পরিবারের কাছে আমরা এই কার্ড পৌঁছে দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’ তিনি আরও বলেন, আজ মা-বোনদের মুখে শুনলাম যে ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার পর তাদের সংসারের নিত্যদিনের কাজগুলো গুছানোর জন্য একটু হলেও সুবিধা হয়েছে। আমাদের মূল উদ্দেশ্যই হলো আমাদের মায়েরা যাতে ভালো থাকতে পারেন, দেশের প্রান্তিক মানুষ যাতে একটু হলেও স্বস্তিতে ও শান্তিতে বাস করতে পারেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের নারীসমাজের প্রতি বর্তমান বিএনপি সরকারের পাশে থাকার উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে এবং দেশের প্রত্যেক মা ও প্রত্যেক নারীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে সকলের সাহায্য, সমর্থন ও সহযোগিতা বর্তমান সরকারের একান্ত প্রয়োজন। আপনারা সকলে যদি সরকারকে সহযোগিতা করে পাশে থাকেন, তাহলে আমরা আস্তে আস্তে সারাদেশের প্রতিটি কোণায় এই ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে পারব। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, এই ফ্যামিলি কার্ডের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা সমাজে একটি বিরাট পরিবর্তন আনতে সক্ষম হব। এর মাধ্যমে ধীরে ধীরে শিক্ষার আলোয় আলোকিত হবে আমাদের নারীরা, একই সঙ্গে অর্থনৈতিকভাবেও তারা স্বাবলম্বী ও শক্তিশালী হয়ে উঠবে।
দেশের সব ধর্মের মানুষকে নিয়ে একসঙ্গে মিলেমিশে ভালো থাকার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা দেশের সকল নাগরিক এবং সকল ধর্মের মানুষকে নিয়ে পরম শান্তিতে পথ চলতে চাই। আমরা সবাই ধৈর্যশীল হলে এই বাংলাদেশকে আমাদের প্রত্যাশিত ও স্বপ্নের দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে পারব। আমরা মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ বা খ্রিস্টান যে ধর্মের অনুসারীই হই না কেন, আমাদের হাজার বছরের ঐতিহ্য হলো সকল ধর্মের মানুষ মিলেমিশে শান্তিতে বসবাস করা। কাজেই বর্তমান ও ভবিষ্যতেও কোনো ধরনের ধর্মীয় ভেদাভেদ না করেই আমরা চলতে চাই। সবাইকে শুধু মানবিকতার ভিত্তিতে বিচার করে এই দেশকে আমরা পুনর্গঠন করতে চাই।
সবশেষে প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যের সমাপ্তি টানতে গিয়ে বলেন, আমরা অতীতে একটি কথা সবসময় বলে আসতাম, ‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’। তবে এবার আমি আপনাদের সামনে আরেকটি নতুন কথা বলতে চাই, তা হলো—‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’। আগামী দিনে দেশের প্রতিটি মানুষ যাতে একটু ভালো থাকতে পারে, সবাই যাতে একটু ভালোভাবে ও মর্যাদার সাথে চলতে পারে, সেটিই হচ্ছে বর্তমান সরকারের মূল রাজনীতি এবং আমাদের একমাত্র লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সাথে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনসহ স্থানীয় ঊর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। গৌরনদীর এই মতবিনিময় সভা শেষে প্রধানমন্ত্রী বরিশালের উদ্দেশে রওনা হন, যেখানে তিনি ত্রিশ গোডাউনের বধ্যভূমি-সংলগ্ন সাগরদী খালপাড়ে একটি বিশেষ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।
গৌরনদীর বাটাজোরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফর ও ৪ কোটি নারীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যয় দেশের প্রান্তিক নারীদের অর্থনৈতিক মুক্তির ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক। সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’ গড়ার এই রাজনৈতিক দূরদর্শিতা দেশের সার্বিক পুনর্গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

বিশেষ সংবাদদাতা, বরিশাল