দেশের বাজারে কাঁচা মরিচের লাগামহীন ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে অবশেষে স্বস্তির খবর মিলেছে। সরকারের পক্ষ থেকে আমদানির অনুমতি প্রদানের পর দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে দীর্ঘ বিরতির পর আবারও ভারতীয় কাঁচা মরিচ আমদানি শুরু হয়েছে। সোমবার (১১ আগস্ট ২০২৬) বিকেলে আমদানিকৃত কাঁচা মরিচের প্রথম চালানটি হিলি বন্দরে প্রবেশ করে। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই দেশের পাইকারি ও খুচরা বাজারে কাঁচা মরিচের আকাশচুম্বী দাম তাৎক্ষণিকভাবে কমতে শুরু করেছে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, মাত্র এক দিনের ব্যবধানে কেজিপ্রতি কাঁচা মরিচের দাম প্রায় ৮০ থেকে ৯০ টাকা পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে।
হিলি স্থলবন্দর সূত্রে জানা গেছে, মাহাদী এন্টারপ্রাইজ এবং রাজ এন্টারপ্রাইজ নামক দুটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান প্রথম দিনে ভারত থেকে ২১ মেট্রিক টন কাঁচা মরিচ আমদানি করেছে। সোমবার বিকেলে ভারতীয় ৩টি ট্রাকে করে এই মরিচের চালান বন্দরে পৌঁছায়। স্থলবন্দরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্র নিশ্চিত করেছে যে, সর্বশেষ গত বছরের ২০ নভেম্বর এই বন্দর দিয়ে কাঁচা মরিচ আমদানি হয়েছিল। দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর আবারও দেশের অভ্যন্তরীণ বাজার স্থিতিশীল করতে সরকার আমদানির এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
জানা গেছে, দেশের বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে সরকার হিলি স্থলবন্দরের ১১ জন আমদানিকারককে প্রায় ৩,৪০০ মেট্রিক টন কাঁচা মরিচ আমদানির অনুমতি প্রদান করেছে। আমদানির অনুমতি বা আইপি (Import Permit) পাওয়ার পরপরই আমদানিকারকরা ব্যাংকে এলসি (Letter of Credit) খোলা সহ প্রয়োজনীয় সকল আনুষ্ঠানিকতা দ্রুত সম্পন্ন করেন। আমদানিকারক শাহাবুল ইসলাম জানান, টানা বৃষ্টিপাত এবং বৈরী আবহাওয়ার কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কাঁচা মরিচের ক্ষেত ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাওয়ায় সরবরাহ সংকট দেখা দেয় এবং দেশের বাজারে কাঁচা মরিচের দাম কেজিপ্রতি ৩০০ টাকার গণ্ডিও ছাড়িয়ে যায়।
শাহাবুল ইসলাম আরও বলেন, উৎপাদন সংকটে দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকায় ভারতের বাজারে দাম তুলনামূলক কম হওয়ার কারণে দীর্ঘদিন ধরেই আমদানিকারকরা ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানির অনুমতির দাবি জানিয়ে আসছিলেন। অবশেষে সরকারের সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের কারণে আমদানি শুরু হওয়ায় বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। হিলি স্থলবন্দর উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপপরিচালক আনোয়ার হোসেন আমদানির তথ্য নিশ্চিত করে জানান, নিয়ম মেনেই কাঁচা মরিচ পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে দ্রুত ছাড়করণের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা আশা প্রকাশ করেছেন যে, যদি ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানি ধারাবাহিকভাবে চলে, তবে বাজারে সরবরাহ আরও বৃদ্ধি পাবে। এতে করে কাঁচা মরিচের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে চলে আসবে বলে তারা মনে করছেন। প্রথম চালানের ২১ মেট্রিক টন মরিচ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছানোর পর বাজার আরও স্থিতিশীল হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারতীয় কাঁচা মরিচ আমদানির ফলে দেশের বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। কেজিপ্রতি এক দিনেই বিপুল পরিমাণ দাম কমে যাওয়া সাধারণ ভোক্তার জন্য বড় স্বস্তি। সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক থাকলে আসন্ন দিনগুলোতে দাম আরও কমে বাজার নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নুরুজ্জামান হোসেন, হিলি (দিনাজপুর) প্রতিনিধি