কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কে বেপরোয়া গতির ডাম্পার ট্রাক ও মোটরসাইকেলের মর্মান্তিক মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই তরুণের অকালমৃত্যু ঘটেছে। বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের কেরুনতলী এলাকায় এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনাটি ঘটে। বেপরোয়া গতির ট্রাকের সজোর ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই এক তরুণ প্রাণ হারান এবং পরবর্তীতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও এক তরুণের মৃত্যু হয়। একই দুর্ঘটনায় দুটি উদীয়মান তাজা প্রাণ ঝরে যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে।
দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে একজন হলেন কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের অধিবাসী মৃত জগির আহমদ ড্রাইভার ও আনোয়ারা বেগম দম্পতির ছেলে মোঃ রুবেল (৩১)। অপর নিহত তরুণ হলেন টেকনাফের হোয়াইক্যং ঘিলাতলী ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবুল হাসিম ও রুজিনা আক্তার দম্পতির ছেলে আরমান (২৩)। তারা দুজনই স্থানীয়ভাবে অত্যন্ত পরিচিত ও সম্ভাবনাময় তরুণ ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, বুধবার সকালে রুবেল ও আরমান মোটরসাইকেলযোগে উখিয়ার পালংখালীর উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। পথিমধ্যে সকাল ১০টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের হোয়াইক্যং কেরুনতলী এলাকা অতিক্রম করার মুহূর্তে বিপরীত দিক থেকে অনিয়ন্ত্রিত গতিতে আসা একটি ভারী ডাম্পার ট্রাক তাঁদের মোটরসাইকেলটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। ঘাতক ট্রাকের প্রকাণ্ড ধাক্কায় মোটরসাইকেলটি চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায় এবং দুই আরোহী সড়কে ছিটকে পড়ে চলন্ত ট্রাকের নিচে চলে যান। আঘাতের ভয়াবহতার কারণে ঘটনাস্থলেই মোঃ রুবেলের করুণ মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার পর পরই আশপাশের স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত উদ্ধার কাজে এগিয়ে আসেন এবং গুরুতর রক্তাক্ত অবস্থায় আরমানকে উদ্ধার করেন। তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে তাঁর শারীরিক অবস্থার আশঙ্কাজনক অবনতি ঘটলে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের জরুরি পরামর্শে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর নাগাদ আরমানও শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। অল্প সময়ের ব্যবধানে দুই যুবকের মৃত্যুর খবর দুই পরিবারে অপূরণীয় ক্ষতি ও শোকের আবহ তৈরি করেছে।
এই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার খবর স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়লে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় অধিবাসীরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে অভিযোগ করেন যে, কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কে দীর্ঘদিন ধরে অনভিজ্ঞ চালক ও লাইসেন্সবিহীন বেপরোয়া ডাম্পার ট্রাফিকের কোনো সুনির্দিষ্ট তোয়াক্কা না করে চলাচল করছে। অনিয়ন্ত্রিত এসব ভারী যানবাহনের অদূরদর্শী ও দায়িত্বজ্ঞানহীন ড্রাইভিংয়ের কারণেই প্রতিদিন এই মহাসড়কে একের পর এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটছে। চালকদের অবহেলা ও বেপরোয়া মনোভাবের খেসারত দিতে গিয়ে মুহূর্তের মধ্যে দুটি পরিবারের জীবন চিরতরে অন্ধকার হয়ে গেল বলে মন্তব্য করেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
ঘটনার পরপরই খবর পেয়ে টেকনাফ থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল দ্রুত দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ বিষয়ে টেকনাফ থানা পুলিশ সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, দুর্ঘটনার পরপরই ঘাতক ডাম্পার ট্রাকটি জব্দ করে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঘাতক চালককে দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে অভিযান চালানো হচ্ছে। এই ঘটনায় জড়িত অভিযুক্ত চালকের বিরুদ্ধে আইনগত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কে বেপরোয়া ডাম্পার ট্রাকের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল ও চালকদের বেপরোয়া মনোভাব প্রতিনিয়তই কেড়ে নিচ্ছে মূল্যবান তাজা প্রাণ। এই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার নিরপেক্ষ সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত চালকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং মহাসড়কে ফিটনেসবিহীন ভারী যান চলাচল রোধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।

মোঃ হারুন অর রশিদ, উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি