শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, আত্মরক্ষার নানাবিধ কৌশল অর্জন এবং বর্তমান তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সুদৃঢ় শৃঙ্খলাবোধ গড়ে তোলার এক মহৎ লক্ষ্যকে সামনে রেখে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে অত্যন্ত আনন্দঘন ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল এক বিশেষ সেমিনার ও ক্যাম্পিং। গত ১৭ই অক্টোবর, শনিবার বাংলাদেশ ফাইটার কারাতে ক্লাবের উদ্যোগে এই যুগোপযোগী ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। তরুণ ও শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক উৎকর্ষ সাধনের এই অনন্য আয়োজনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ক্লাবের অসংখ্য প্রশিক্ষণার্থী।
বাংলাদেশ ফাইটার কারাতে ক্লাবের সম্মানিত প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান প্রশিক্ষক নাসির উদ্দিন নাসিমের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধান ও সার্বিক নির্দেশনায় সম্পূর্ণ অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত সফলভাবে উদযাপিত ও পরিচালিত হয়। তরুণ প্রজন্মকে আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তোলার এই মহতী আয়োজনে প্রধান প্রশিক্ষকের পাশাপাশি অন্যান্য কলাকৌশলী ও সহকারী প্রশিক্ষকরাও অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাদের দায়িত্ব পালন করেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন কারাতে কলাকৌশল ও কৌশলগত প্রশিক্ষণে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন সহকারী প্রশিক্ষক মো. মামুন চৌধুরী, প্রশিক্ষক রাসেল ও তাঁর সহকারীবৃন্দ। এছাড়াও এই বিশাল আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতা ও উপস্থিতিতে ছিলেন বাংলাদেশ ফাইটার কারাতে ক্লাবের প্রচার সম্পাদক আলী হোসাইন এবং ক্লাবের সিনিয়র সদস্য রেজাউল করিম নবী।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে এক অন্যরকম উৎসাহ ও উদ্দীপনা পরিলক্ষিত হয়। সেমিনার ও ক্যাম্পিংয়ে বিশেষ করে চট্টগ্রামের শেরশাহ্ ক্লাবের শিক্ষার্থীবৃন্দ এবং ক্যান্টনমেন্ট এরিয়া রেডিসন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিপুল সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রী অত্যন্ত আগ্রহের সাথে অংশগ্রহণ করেন। শারীরিক ও মানসিক শক্তির সঠিক সমন্বয় ঘটানোর এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা শারীরিক অনুশীলনের পাশাপাশি আত্মবিশ্বাস, সীমাহীন ধৈর্য ও আত্মনিয়ন্ত্রণের এক অসাধারণ শিক্ষা লাভ করেছেন, যা তাদের ভবিষ্যৎ জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে।
প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলাকালে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-ছাত্রীদের বয়স, শারীরিক সামর্থ্য ও মানসিক দক্ষতা অনুযায়ী অত্যন্ত বিজ্ঞানসম্মতভাবে বিভিন্ন কারাতে কৌশল শেখানো হয়। এর পাশাপাশি শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যায়াম, শরীরের সঠিক ভারসাম্য রক্ষা এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত বিপদের মুহূর্তে নিজেকে নিরাপদে রাখার আত্মরক্ষামূলক পদ্ধতিগুলো অত্যন্ত নিখুঁতভাবে প্রদর্শন ও অনুশীলন করানো হয়। দক্ষ প্রশিক্ষকদের সুস্পষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী নিয়মিত কঠোর অনুশীলনের মাধ্যমে প্রতিটি প্রশিক্ষণার্থীর ব্যক্তিগত সক্ষমতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর এই ক্যাম্পিংয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করা হয়।
কারাতে প্রশিক্ষণের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য কেবল পেশিশক্তি বৃদ্ধি নয়, বরং যেকোনো আকস্মিক বিপদের সময় সাহসিকতার সাথে নিজেকে রক্ষা করার মানসিক ও শারীরিক সক্ষমতা তৈরি করা। সেমিনারে বক্তারা এবং প্রশিক্ষকরা বারবার এই বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দেন যে, কারাতে কোনোভাবেই অন্যের ওপর শক্তি প্রদর্শনের হাতিয়ার নয়; বরং এটি হলো সম্পূর্ণ আত্মরক্ষা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের এক নিখুঁত শিল্প। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রতিটি শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রাত্যহিক জীবনের নিয়মানুবর্তিতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং একজন আদর্শ নাগরিক হিসেবে দায়িত্বশীল আচরণ গড়ে তোলার নিরন্তর চেষ্টা করা হয়।
সেমিনার ও ক্যাম্পিংয়ের সার্বিক বিষয়ে বাংলাদেশ ফাইটার কারাতে ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান প্রশিক্ষক নাসির উদ্দিন নাসিম তাঁর মূল্যবান বক্তব্যে বলেন, বর্তমান সমাজে এ ধরনের গঠনমূলক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের মাধ্যমে শিশু-কিশোর ও তরুণ সমাজের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে অভাবনীয় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। তিনি আরও বিশ্বাস করেন যে, এই ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে সর্বস্তরের মানুষের মাঝে আত্মরক্ষামূলক প্রশিক্ষণের প্রতি সচেতনতা ও আগ্রহ বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে, যা একটি সুস্থ সমাজ গঠনে সহায়ক হবে।
একটি সুস্থ, আত্মবিশ্বাসী, সুশৃঙ্খল ও নির্ভীক ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তুলতে হলে ফাইটার কারাতে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের মতো উদ্যোগগুলোর ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সমাজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিপদমুক্ত ও আত্মনির্ভরশীল সমাজ বিনির্মাণে শিশু-কিশোরদের নিয়মিত অনুশীলন এবং দক্ষ ও অভিজ্ঞ প্রশিক্ষকদের সঠিক তত্ত্বাবধান নিশ্চিত করা এখন সময়ের অন্যতম প্রধান দাবি।

আলী হোসাইন, ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম