কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ব্যস্ততম কুতুপালং বাজারে দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগ ও তীব্র যানজট নিরসনে আবারও বড় ধরনের উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো এই অভিযানে ফুটপাত দখলমুক্ত করার পাশাপাশি ১২ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
আজ সোমবার (০৪ মে) সকাল ১০:৩০টা থেকে দুপুর ১:৩০টা পর্যন্ত টানা তিন ঘণ্টা এই অভিযান চলে। উখিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রিফাত আসমা’র নির্দেশনায় অভিযানের নেতৃত্ব দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জনাব শারমিন সুলতানা।
অভিযান চলাকালে দেখা যায়, সড়কের দুই পাশের ফুটপাত দখল করে অসাধু ব্যবসায়ীরা অবৈধ স্থাপনা ও দোকান বসিয়ে জনসাধারণের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয় এবং সরকারি আদেশ অমান্য করায় সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে মোট ১২,০০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
জনস্বার্থে পরিচালিত এই অভিযানে প্রশাসনের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন:- উখিয়া থানা ও হাইওয়ে পুলিশ। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন স্কাউটসের সদস্যরা।রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটি। স্থানীয় সচেতন নাগরিকবৃন্দ।
স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে কঠোর নির্দেশনা ও অভিযান শেষে ফুটপাত যাতে পুনরায় দখল না হয়, সে লক্ষ্যে রাজাপালং ইউপি চেয়ারম্যান ও বাজার কমিটিকে কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। ভবিষ্যতে পুনরায় অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠলে আরও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে। এছাড়া হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিয়মিত নজরদারি বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
”কুতুপালং বাজারের যানজট নিরসনে আমরা বদ্ধপরিকর। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে প্রশাসনের এই ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত থাকবে।” — উপজেলা প্রশাসন, উখিয়া।
উল্লেখ্য যে, কুতুপালং বাজার এলাকায় অসাধু ব্যবসায়ীদের অনিয়ম এবং সাধারণ মানুষের অসচেতনতার কারণে দীর্ঘকাল ধরে যানজট একটি নিত্যনৈমিত্তিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়দের মতে, প্রশাসনের এই ধারাবাহিক পদক্ষেপে সড়কে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তবে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিত সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন।