কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার সীমান্ত এলাকায় প্রশাসনের নজরদারি এড়িয়ে একটি ব্যাটারিচালিত টমটম (অটো-রিকশা) থেকে বিশাল অংকের ইয়াবার চালান ছিনতাইয়ের এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। গত শুক্রবার (১ মে) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার সময় পালংখালী ইউনিয়নের ভাদিতলি এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে। মাদক পাচারের কৌশলী এই ঘটনায় দুই মাদক কারবারি প্রায় ৪০ হাজার পিস ইয়াবা নিয়ে দ্রুত গা-ঢাকা দিয়েছে, যা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযুক্তরা হলেন উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের ভাদিতলি এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী মার্বেল এবং একই এলাকার ছৈয়দুল আমিন, বশর ও জুবায়ের। স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় ইয়াবার একটি বড় চালান অটো-রিকশা যোগে পাচার করা হচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রশাসন ওই টমটম গাড়িটি ভাদিতলি এলাকায় থামিয়ে দফায় দফায় দুই বার তল্লাশি চালায়। তবে প্রশাসনের এই তল্লাশি প্রক্রিয়ার মধ্যেই কৌশলে পরিস্থিতি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় অভিযুক্ত মোহাম্মদ আলী মার্বেল ও ছৈয়দুল আমিন। তারা অত্যন্ত ক্ষিপ্রতার সাথে যানটি থেকে ইয়াবা ভর্তি ব্যাগটি ছিনতাই করে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি অনুযায়ী, ওই ব্যাগে আনুমানিক ৪০ হাজার পিস ইয়াবা ছিল। ইয়াবাগুলো হস্তগত করার পরপরই অভিযুক্তরা দ্রুত এলাকা থেকে সটকে পড়ে।

প্রকাশ্য দিবালোকে এবং প্রশাসনের নজর এড়িয়ে এত বড় একটি ইয়াবার চালান ছিনতাইয়ের ঘটনায় জনমনে নানা প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অভিযুক্ত এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকায় শক্তিশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। তাদের বেপরোয়া কর্মকাণ্ডের কারণে উখিয়া ও টেকনাফ সীমান্ত এলাকায় অপরাধ প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। প্রশাসনের জিরো টলারেন্স নীতির মধ্যেও কারবারিরা কীভাবে ইয়াবা নিয়ে চম্পট দিল, তা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনার পরপরই অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্ত করতে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তৎপরতা শুরু করেছে। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পলাতক আসামিদের কাউকেই গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। এই বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, মাদক নির্মূলে সরকারের কঠোর অবস্থান বজায় থাকবে এবং পলাতক মাদক কারবারিদের আইনের আওতায় আনতে সাড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সীমান্ত এলাকায় মাদকের এই দৌরাত্ম্য বন্ধে আরও কঠোর নজরদারি ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয় প্রয়োজন। দ্রুত অপরাধীদের গ্রেফতার করা না গেলে মাদক চোরাচালানের ঝুঁকি আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}