বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীকে কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দলের অনুগত না হয়ে দেশের বিধিবদ্ধ আইন অনুযায়ী পরিচালিত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, পুলিশ প্রশাসন কোনো দলের নয়; এটি জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করবে। আজ রাজারবাগ পুলিশ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত পুলিশের ‘কল্যাণ প্যারেড’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে, কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন কোনোভাবেই হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা পুলিশের পবিত্র দায়িত্ব। পুলিশ যদি জনগণের কাছে বিশ্বাস এবং নিরাপত্তার প্রকৃত প্রতীক হয়ে উঠতে পারে, তবেই এই বাহিনীর প্রকৃত সাফল্য আসবে, যা শেষ পর্যন্ত সরকারেরও সাফল্য হিসেবে গণ্য হবে।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে পুলিশের চিরাচরিত আদর্শ ‘দুষ্টের দমন আর শিষ্টের লালন’-এর কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, সাধারণ মানুষ বিপদে পড়লেই আশ্রয়ের আশায় থানায় আসে। তাই থানা হতে হবে সাধারণ মানুষের নির্ভরযোগ্য আশ্রয়স্থল। তিনি পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেন, এ দেশের জনগণই রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক। কোনো নাগরিক যখন সাহায্যের জন্য থানায় যাবেন, আপনাদের আচরণে তিনি যেন সেই মালিকানার সম্মানটুকু অনুভব করতে পারেন। আইনের প্রয়োগের পাশাপাশি যদি মানবিকতার ছোঁয়া থাকে, তবে সরকারের সকল অর্জন জনগণের মাঝে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, মাঠ পর্যায়ে পুলিশ সদস্যরা হলেন সরকারের দূত, যারা তাদের দক্ষতা ও কৌশলী সিদ্ধান্তের মাধ্যমে যেকোনো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অনন্য ভূমিকা পালন করতে পারেন।

বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তৎকালীন সরকার নিজেদের হীন দলীয় স্বার্থে পুলিশ বাহিনীকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছিল। সেই অন্ধকার সময় পেছনে ফেলে এখন নতুনভাবে এগিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার একটি আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর এবং মানবিক পুলিশ বাহিনী গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর। এর অংশ হিসেবে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সাইবার পুলিশ প্রতিষ্ঠা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), বিগ ডাটা বিশ্লেষণ এবং ফরেনসিক সুবিধার মতো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। প্রধানমন্ত্রী জানান, মেধা ও সততার ভিত্তিতে বদলি, পদোন্নতি ও নিয়োগের ব্যবস্থা করে পুলিশের প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা সুদৃঢ় করা হবে।

মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে তারেক রহমান বলেন, মাদক সরবরাহকারী এবং এর মূল উৎস টার্গেট করে কঠোর অভিযান চালাতে হবে। পাশাপাশি কিশোর গ্যাং, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং অনলাইন জুয়ার মতো সামাজিক ব্যাধি দমনে পুলিশকে আরও সক্রিয় হতে হবে। গুম, অপহরণ বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মতো কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে তিনি হুঁশিয়ারি প্রদান করেন। যদিও ভঙ্গুর অর্থনীতি ও বৈশ্বিক প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে সব প্রত্যাশা দ্রুত পূরণ করা সম্ভব নয়, তবুও পর্যায়ক্রমে পুলিশ সদস্যদের আবাসন, চিকিৎসা, রেশন ও ঝুঁকি ভাতাসহ সকল সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক আলী হোসেন ফকিরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই নির্দেশনা একটি বৈষম্যহীন ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার পথে পুলিশ বাহিনীকে নতুন উদ্যমে কাজ করতে উৎসাহিত করবে। মানবিকতা ও ন্যাবিচারের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জনই হবে আগামীর পুলিশের প্রধান লক্ষ্য।

#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}