কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ফের সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। এবার অজ্ঞাত পরিচয় সন্ত্রাসীদের গুলিতে হাসমত উল্লাহ (২২) নামে এক রোহিঙ্গা যুবক গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেল আনুমানিক তিনটার দিকে বালুখালী ৮-ইস্ট নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এই অতর্কিত হামলার ঘটনাটি ঘটে। এই ঘটনায় ক্যাম্পজুড়ে সাধারণ রোহিঙ্গাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
আহত হাসমত উল্লাহ ওই ক্যাম্পের বি-৪৩ ব্লকের বাসিন্দা মৃত মোহাম্মদের ছেলে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেলে বালুখালী ক্যাম্প-০৮ ইস্ট এলাকায় আরসা (ARA) প্রধান নবী হোসেনের ভাই ভুলুর বসতঘরের সামনে অবস্থান করছিলেন হাসমত উল্লাহ। ঠিক সেই মুহূর্তে একদল অজ্ঞাত সন্ত্রাসী সেখানে উপস্থিত হয়ে তাকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। সন্ত্রাসীরা অত্যন্ত দ্রুততার সাথে হামলা চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। গুলিবর্ষণের এই ঘটনায় হাসমত উল্লাহর ডান হাতে দুটি গুলি বিদ্ধ হয় এবং তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দা এবং এপিবিএন পুলিশের সদস্যরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করেন। প্রথমে তাকে ক্যাম্প সংলগ্ন একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকলে উন্নত চিকিৎসার স্বার্থে চিকিৎসকরা তাকে দ্রুত কুতুপালং এমএসএফ (MSF) হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তার অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গুলিবর্ষণের ঘটনায় এক যুবক আহত হওয়ার খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করতে এবং তাদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ক্যাম্পের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টহল জোরদার করা হয়েছে যাতে নতুন করে কোনো অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে ক্রমবর্ধমান এই সশস্ত্র হামলা ও সহিংসতার ঘটনা সাধারণ বাসিন্দাদের জীবনের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।