উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের বটতলী এলাকার বাসিন্দা সাখাওয়াত হোসেন মুন্না ও তার পরিবার এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিনাতিপাত করছেন। এক সময় পানের দোকানে হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে জীবিকা নির্বাহ করা এই যুবককে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও পূর্ব শত্রুতার জেরে ‘মাদক কারবারি’ সাজিয়ে সমাজচ্যুত করার অপচেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

‎গত ১১ মে কক্সবাজারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মুন্না দাবি করেন, স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় এবং তাদের স্বার্থে আঘাত লাগায় তিনি আজ রোষানলে পড়েছেন। তার দাবি, তিনি ২০২১ সালের  রোজু হওয়া মাদক মামলার সাথে কোনো প্রকার জড়িত নন, তাকে ষড়যন্ত্র করে পাশানো হয়েছিল। অথচ স্থানীয় ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল ফয়েজ ও তার অনুসারীরা তাকে তোলে নিয়েগিয়ে অমানুষিক নির্যাতন চালিয়েছে।

‎মুন্নার ভাষ্যমতে, ২০২১ সালে দেড় লাখ ইয়াবাসহ তাকে জড়ানোর বিষয়টি ছিল একটি সুপরিকল্পিত নাটক। ওই ঘটনায় তাকে বলির পাঁঠা বানানো হয়েছিল। মূলত প্রশাসনের অভিযান সাধারণ মানুষের সাথে দেখতে যাওয়ায়,তাকে চিহ্নিত করে   তৎকালীন আওয়ামী লীগের কিছু নেতার ইন্দনে সেই বিএনপি পরিবারের সদস্য হওয়ায় তাকে জোরপূর্বক পাশানো হয়েছিল এবং সত্য ঘটনাটি পালংখালীর অনেকেই জানেন বলে দাবি করেন। এমনকি গত ৮ই মে-২৬ আনজুমানপাড়া বাঁশ জাড় থেকে ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় তাকে উদ্দেশ্য মূলকভাবে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা চলছে।
‎মুন্না ও তার চার সহযোগীর অভিযোগ— আবুল ফয়েজ তাদের আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন করেছেন এবং মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে সামাজিকভাবে অপরাধী সাজানোর জন্য জোর অপচেষ্টা চালাচ্ছেন।

‎এলাকাবাসীর সকলেই মনে করছেন, পালংখালী আঞ্জুমান পাড়া সীমান্ত এলাকায় বিগত আওয়ামিলীগ সরকারের সময়েও প্রভাবশালীদের সাথে  সঙ্ঘবদ্ধ থেকে দীর্ঘ সময় প্রভাব বিস্তার করে মাদক ব্যাবসা ও অন্যায় কর্ম কান্ড করেছিল,
‎জুলাই ২৪-শের পরে এসেও পূর্বের চেনা পথের লোকজন সহ নতুন কিছু মাদক কারবারিদের নিয়ে ১৩১-জনের সেন্ডিকেট করে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে ভয় দেখিয়ে আধিপত্য বিস্তার করে আসছে, এমতাবস্থায় আমি মুন্নার কাছে আবুল ফয়েজ সহ তার সিন্ডিকেট এর কিছু অপকর্মের তথ্য ও দালিলিক প্রমাণ আমার হাতে রয়েছে জেনে প্রশাসন ও জনগণের কাছে আমাকে অপরাধী বানানোর অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বিভিন্ন নিউজ প্রচারের মাধ্যমে।

‎স্থানীয়দের মতে:  আবুল ফয়েজের অবৈধ ব্যবসায় সহযোগিতা না করায় মুন্নার ওপর ক্ষুব্ধ হয় প্রভাবশালী চক্র এই চক্র, সাধারণ পানের দোকানদার মুন্না নিজের পরিশ্রমে স্বাবলম্বী হওয়াকে তারা বাঁকা চোখে দেখছে। তার এই ব্যাসাকে বিতর্কিত করতে কৌশলে ‘মাদক কারবারি’র তকমা দেওয়া হচ্ছে।

‎সাখাওয়াত হোসেন মুন্না বলেন, “আমি এক সময় কষ্ট করে পানের দোকানে কাজ করেছি, সেটা আমার সততার প্রমাণ। আজ নিজের পরিশ্রমে সম্মান নিয়ে বাঁচতে গেলেই আমাকে মাদক কারবারি বানানো হচ্ছে। ফয়েজের বাহিনীর ভয়ে আমি ও আমার পরিবার এখন যাযাবরের মতো পালিয়ে বেড়াচ্ছি। আমি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও জীবনের নিরাপত্তা চাই।” এবং বিভিন্ন অনলাইন পোড়ালে প্রকাশিত সংবাদের সত্যতা যাচাই করার আহবান জানাচ্ছি।

‎অন্যদিকে, অভিযুক্ত আবুল ফয়েজ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বিষয়টিকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যা দেন,

‎উখিয়া থানা পুলিশ জানিয়েছে, মাদক সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য তারা গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছে। তবে কোনো নির্দোষ ব্যক্তি যাতে ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার না হয় এবং এলাকায় যেন শান্তিশৃঙ্খলা বজায় থাকে, সেদিকেও কড়া নজর দেওয়া হচ্ছে। কক্সবাজার জেলা পুলিশের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আওতায় প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্তে কাজ চলছে।

#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}