আসন্ন ঈদুল আযহা উপলক্ষে উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিভিন্ন এনজিও সংস্থা কর্তৃক বরাদ্দকৃত কোরবানির গরুর মাংসের ২৫ শতাংশ স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বিতরণের তালিকা প্রকাশ ও অধিকার নিশ্চিতের দাবিতে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক (ডিসি) বরাবরে আবেদন করা হয়েছে।
গত ২৪ মে ২০২৬ তারিখে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) কার্যালয় থেকে জারিকৃত স্মারক নং- ৫১.০৪.২২০০.০০৬.০৬.০১০.২৬-১৭৮৫ এর সূত্র ধরে পালংখালী ইউনিয়নবাসীর পক্ষে এই আবেদন প্রদান করেন পালংখালী ০৭ নং ওয়ার্ডের স্থানীয় বাসিন্দা অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, আসন্ন ঈদুল আযহা উপলক্ষে ৪১টি এনজিও সংস্থার মাধ্যমে ৩৩টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের জন্য সর্বমোট ১,৯৫,৭৫৪ কেজি (এক লক্ষ পঁচানব্বই হাজার সাতশত চুয়ান্ন কেজি) গরুর মাংস বরাদ্দ করা হয়েছে। সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম অনুযায়ী, এর বিপরীতে স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর জন্য ২৫ শতাংশ অর্থাৎ ৪৮,৯৩৮ কেজি মাংস বরাদ্দ থাকার কথা।
আবেদনকারী অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম জানান, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট সীমান্ত দিয়ে ঢল নামার পর উখিয়ার পালংখালী ও বালুখালী রহমতের বিল এলাকা দিয়েই ১৩ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করে। বর্তমানে পালংখালী ইউনিয়নের ২৫টি ক্যাম্পে ১০ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা বসবাস করছে। বিপুল সংখ্যক এই শরণার্থীর চাপে উখিয়া-টেকনাফের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অবহেলিত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পালংখালী ইউনিয়ন। এখানকার রাস্তাঘাট, পরিবেশ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক।
আবেদনে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলা হয়, এত বিপুল পরিমাণ মাংস বরাদ্দ হওয়া সত্ত্বেও সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত পালংখালী ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দারা কত শতাংশ মাংস পাচ্ছে, তার কোনো স্পষ্ট তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। স্থানীয়দের অধিকার নিশ্চিত করতে এবং বিতরণে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কোন ইউনিয়ন কত কেজি মাংস পাচ্ছে, তার বিস্তারিত তালিকা প্রকাশের বিনীত অনুরোধ জানানো হয়েছে।
”রোহিঙ্গাদের কারণে সবচেয়ে বেশি ত্যাগ স্বীকার করেছে পালংখালীর মানুষ। অথচ অধিকারের বেলায় স্থানীয়রাই বঞ্চিত হচ্ছে। আমরা চাই আরআরআরসি অফিসের নির্দেশনা অনুযায়ী স্থানীয়দের প্রাপ্য ২৫% মাংস যেন যথাযথভাবে এবং স্বচ্ছ তালিকার মাধ্যমে দ্রুত বিতরণ করা হয়।” অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম (আবেদনকারী)
উখিয়া-টেকনাফের স্থানীয় ভূক্তভোগী জনগণের অধিকার রক্ষায় এবং ঈদুল আযহার আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতি দ্রুত কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য উখিয়াবাসী জোর দাবি জানিয়েছেন।