দিনাজপুরের হিলি সীমান্তে অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশের দায়ে আটক এক বাংলাদেশি যুবককে একদিন পর বিজিবি-বিএসএফের পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিজিবির নিকট ফেরত দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) উক্ত যুবককে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এবং পরিবারের কাছে হস্তান্তরের উদ্দেশ্যে স্থানীয় থানা পুলিশের নিকট সোপর্দ করে। বিএসএফের কাছ থেকে ফেরত আসা ওই যুবকের নাম বিষ্ণু কুমার সরকার (৩২)। তিনি সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর থানার দুর্গাদহ গ্রামের বিশ্বনাথ সরকারের ছেলে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

কূটনৈতিক ও সীমান্ত নথিসূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (২৮ মে) আনুমানিক সকাল সাড়ে নয়টার দিকে হিলি সীমান্তের একটি নির্দিষ্ট পয়েন্টে বিজিবি এবং বিএসএফের মধ্যে এক জরুরি ব্যাটালিয়ন পর্যায়ের পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত বৈঠকে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে আটক যুবককে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নিকট হস্তান্তর করা হয়। এই চাঞ্চল্যকর বিষয়টি আজ শুক্রবার দুপুর বারোটার দিকে স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ জাকির হোসেন।

ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ জাকির হোসেন ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে জানান, গতকাল অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশের দায়ে বিজিবি ওই যুবককে উদ্ধার করার পর ২৮ মে রাত সাড়ে এগারোটার দিকে হাকিমপুর থানায় লিখিতভাবে হস্তান্তর করে। বিজিবির পক্ষ থেকে থানায় সোপর্দ করার পর পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে যুবকের স্থায়ী ঠিকানায় ও তাঁর পরিবারের কাছে আইনগতভাবে সংবাদ পাঠানো হয়েছে। বিষ্ণু কুমার সরকারের পরিবার থানায় এসে পৌঁছালে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাঁকে তাঁর স্বজনদের নিকট বুঝিয়ে দেওয়া হবে।

বিজিবির দায়েরকৃত লিখিত অভিযোগ ও এজাহার সূত্রে আরও জানা গেছে যে, ভারতে আটক হওয়া ওই যুবক গত ২৭ মে জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি উপজেলার হাটখোলা সীমান্ত এলাকা দিয়ে আন্তর্জাতিক সীমান্ত রেখা অতিক্রম করে অবৈধভাবে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন। সে সময় ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) সীমান্তে টহলরত অবস্থায় তাঁকে অনুপ্রবেশের দায়ে হাতেনাতে আটক করে ক্যাম্পে নিয়ে যায়। ঘটনার পর বিজিবির পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ ও তাৎক্ষণিক যোগাযোগের পর, একদিন আটক রাখার পর সীমান্তে বিজিবি ও বিএসএফের ফলপ্রসূ পতাকা বৈঠকের মাধমে তাঁকে বিজিবির নিকট সোপর্দ করা হয়।

সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশের ঘটনা রোধে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নজরদারি বৃদ্ধির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা তৈরি করা আবশ্যক। তবে বিজিবি ও বিএসএফের দ্রুত পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আটক যুবককে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা এবং পুলিশের আইনি পদক্ষেপের প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত ইতিবাচক ও প্রশংসনীয়।

#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}