কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় পারিবারিক কলহ ও অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে পারভিন আক্তার (২৫) নামের এক তরুণী গৃহবধূর অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। হৃদয়বিদারক এই ঘটনার পর জড়িত থাকার সন্দেহে এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্বামী ও শাশুড়িকে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করে থানায় নিয়েছে উখিয়া থানা পুলিশ। জানা গেছে, অকালে প্রাণ হারানো ওই গৃহবধূ উখিয়ার হলদিয়া পালং ইউনিয়নের অন্তর্গত পাগলির বিল গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল গফুরের মেয়ে পারভীন আক্তার। গত বৃহস্পতিবার সকালে উখিয়ার হলদিয়াপালং ইউনিয়নের পাগলির বিল এলাকার শ্বশুরবাড়িতে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।

পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন সকালে বাবার বাড়িতে যাওয়াকে কেন্দ্র করে গৃহবধূ পারভিন আক্তারের সঙ্গে তাঁর স্বামী মো. আব্দুল আলমের চরম কথা-কাটাকাটি ও বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে দুইজনের মধ্যকার এই পারিবারিক বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করলে পারভিন আক্তার গুরুতর শারীরিক আঘাতপ্রাপ্ত ও মারাত্মক জখম হন। পরবর্তীতে তাঁর শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটলে পরিবারের লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর পর সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক পারভিন আক্তারকে পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মৃত ঘোষণা করেন।

শ্বশুরবাড়িতে গৃহবধূর এমন রহস্যজনক মৃত্যুর খবর পেয়ে উখিয়া থানা পুলিশের একটি বিশেষ টিম দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছুটে যায়। পুলিশ সদস্যরা হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর সঠিক কারণ অনুসন্ধানে এক নিবিড় তদন্ত শুরু করে। ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের অংশ হিসেবে পারভিনের স্বামী মো. আব্দুল আলম ও তাঁর শাশুড়ি মরিয়ম বেগমকে আটক করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। নিহত গৃহবধূর মরদেহ ময়নাতদন্তের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান, গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট সন্দেহে দুইজনকে আটক করে বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত নেপথ্য উদঘাটনে পুলিশ তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে। তবে এই দুঃখজনক হত্যাকাণ্ডের বা মৃত্যুর ঘটনায় এখন পর্যন্ত নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় আনুষ্ঠানিক কোনো লিখিত অভিযোগ বা নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়নি। পুলিশ ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে এবং অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে পরবর্তী কঠোর আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে থানা প্রশাসন নিশ্চিত করেছে।

পারিবারিক সামান্য কলহ বা বাবার বাড়ি যাওয়া নিয়ে বিরোধের জেরে এক ২৫ বছর বয়সী গৃহবধূর প্রাণহানি কোনোভাবেই কাম্য নয়। উখিয়া থানা পুলিশ দ্রুততার সাথে স্বামী ও শাশুড়িকে হেফাজতে নিয়ে প্রশংসনীয় কাজ করেছে এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্টের মাধ্যমে এই মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটিত হবে বলে স্থানীয়রা আশা করছেন।

#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}