কক্সবাজারের উখিয়া থেকে দিনের আলোতে অপহৃত হওয়া ১৮ বছর বয়সী এক তরুণকে অপহরণের মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১৫। উদ্ধারকারী দল টেকনাফের কাঞ্জর পাড়া বাজার এলাকা থেকে অপহৃত ভিকটিমকে উদ্ধার করার পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে। অপহরণের মতো একটি স্পর্শকাতর ও চাঞ্চল্যকর অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর সীমান্ত অঞ্চলের আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার এমন দ্রুত ও দূরদর্শী পদক্ষেপ স্থানীয় জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।
র্যাব সদর দপ্তর ও আভিযানিক দল সূত্রে জানা যায়, গত ৪ জুন সকাল আনুমানিক ৮:০০ ঘটিকায় উখিয়া এলাকা থেকে আবছার (১৮) নামের ওই তরুণকে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা জোরপূর্বক অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। এই অনাকাঙ্ক্ষিত অপহরণের ঘটনার পরপরই ভিকটিমের পিতা কোনো প্রকার কালক্ষেপণ না করে দ্রুত র্যাব-১৫ কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথেই র্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে র্যাব-১৫, সিপিসি-২ (হোয়াইক্যং ক্যাম্প)-এর একটি চৌকস ও অত্যন্ত দক্ষ আভিযানিক দল অপহৃত তরুণকে অক্ষত উদ্ধারে মাঠপর্যায়ে সাঁড়াশি অভিযানে নামে।
অভিযান পরিচালনাকারী বিশেষ দলটি সুনির্দিষ্ট তথ্য, বিশ্বস্ত গোপন সংবাদ এবং আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ও নিখুঁত সহায়তায় ভিকটিমের সর্বশেষ অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। এরই ধারাবাহিকতায় একই দিন অর্থাৎ ৪ জুন রাত আনুমানিক ৭:৩০ ঘটিকায় টেকনাফের কাঞ্জর পাড়া বাজার এলাকার প্রধান রাস্তার পাশ থেকে ভিকটিম আবছারকে সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তবে আস্তানার চারপাশ জুড়ে র্যাবের ভারী বুটের আওয়াজ ও আভিযানিক দলের উপস্থিতি টের পেয়ে অপহরণকারী চক্রের সদস্যরা ভিকটিমকে ফেলে অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ায় ঘটনাস্থল থেকে তখন কাউকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
র্যাব-১৫-এর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় যে, উদ্ধারকৃত তরুণকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ও নথিপত্র সম্পন্ন করে তাঁর প্রকৃত অভিভাবকের নিকট রাতেই বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই আকস্মিক অপহরণের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ভুক্ত করা হয়েছে। ভিকটিমকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও মূল অপরাধীদের ও নিখোঁজ চক্রটিকে সুনির্দিষ্টভাবে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে র্যাবের বিশেষ গোয়েন্দা নজরদারি এবং দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় চিরুনি অভিযান জোরদারভাবে অব্যাহত রয়েছে। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যেকোনো ধরণের জঘন্য অপরাধ দমনে র্যাব-১৫ সর্বদা বদ্ধপরিকর ও সদা তৎপর বলেও বিজ্ঞপ্তিতে পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
উখিয়া থেকে অপহৃত তরুণকে মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে টেকনাফ থেকে উদ্ধার করা র্যাব-১৫-এর গোয়েন্দা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তবে সীমান্ত এলাকায় এই ধরনের অপহরণ সিন্ডিকেটের স্থায়ী অবসান ঘটাতে পলাতক অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা অত্যন্ত জরুরি।