কক্সবাজারের সীমান্ত জনপদ উখিয়ায় অপরাধ দমনে নিয়োজিত এলিট ফোর্স র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)-১৫ এর এক অত্যন্ত সফল ও ঝটিকা অভিযানে দুই মাদক মামলার এজাহারনামীয় এবং দীর্ঘদিনের পলাতক এক কুখ্যাত আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (০৯ জুন ২০২৬) দুপুরে উখিয়া থানার অন্তর্গত পালংখালী বাজার এলাকায় এক সুপরিকল্পিত অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় র‍্যাব-১৫, সিপিসি-২ (হোয়াইক্যং ক্যাম্প)-এর একটি চৌকস আভিযানিক দল। দীর্ঘদিন ধরে সুকৌশলে আত্মগোপনে থাকা এই মাদক মামলার আসামিকে গ্রেফতারের পর স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পেশাদারিত্ব ও কর্মদক্ষতার প্রশংসা করছে সচেতন মহল।

র‍্যাবের আভিযানিক দল ও সীমান্ত নথিসূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গ্রেফতারকৃত ওই কুখ্যাত ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নাম ছৈয়দুল বশর প্রকাশ ছিয়ক প্রকাশ সিসি (৩৯)। তিনি মূলত উখিয়া থানার পালংখালী ইউনিয়নের ০৯ নং ওয়ার্ডের অন্তর্গত সীমান্ত অববাহিকার আঞ্জুমানপাড়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুল ছবুরের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিজের নাম-পরিচয় আড়াল করে এবং সুকৌশলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাযাবরের মতো স্থান পরিবর্তন করে আত্মগোপনে জীবনযাপন করে আসছিলেন, যাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে সহজে শনাক্ত ও গ্রেফতার করতে না পারে।

র‍্যাব-১৫ সদর দপ্তর ও হোয়াইক্যং ক্যাম্প সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত ছৈয়দুল বশর উখিয়া থানার সুনির্দিষ্ট দুই-দুটি মাদক মামলার এজাহারনামীয় এবং বিজ্ঞ আদালত কর্তৃক ওয়ারেন্টভুক্ত প্রধান পলাতক আসামি। তিনি দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে ফেরারি হয়ে বেড়াচ্ছিলেন। তবে গতকাল থেকে শুরু হওয়া বিশেষ গোয়েন্দা নজরদারির অংশ হিসেবে নির্ভরযোগ্য গোপন সংবাদ এবং সুনির্দিষ্ট আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির সর্বোচ্চ সহায়তায় র‍্যাব-১৫, সিপিসি-২ এর আভিযানিক দল জানতে পারে যে, উক্ত আসামি উখিয়ার পালংখালী বাজার এলাকায় কোনো এক গোপন উদ্দেশ্যে অবস্থান করছেন।

প্রাপ্ত তথ্যের সত্যতা ও গোপন সূত্রের কার্যকারিতা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করার পর আজ দুপুর ঠিক ১৩:০৫ ঘটিকার সময় র‍্যাবের আভিযানিক দল ওই জনাকীর্ণ বাজার এলাকায় একটি আকস্মিক ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করে। বাজারে ওত পেতে থাকা র‍্যাবের চৌকস দল চারপাশ থেকে ঘেরাও করে সুচতুর ছৈয়দুল বশরকে পালংখালী বাজার এলাকা থেকে হাতেনাতে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। র‍্যাব-১৫ এর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে যে, গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আদালতের সাজা ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কক্সবাজার জেলার উখিয়া থানায় হস্তান্তরের আইনি প্রক্রিয়া বর্তমানে জোরালোভাবে চলমান রয়েছে।

এই সফল ও সাহসী অপারেশনের পর র‍্যাব-১৫-এর দায়িত্বপ্রাপ্ত শীর্ষ কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, উখিয়া ও টেকনাফের সীমান্ত এলাকায় মাদক সম্পূর্ণ নির্মূল করতে এবং যেকোনো ধরনের অপরাধ দমনে তাঁদের এই ধরনের বিশেষ চিরুনি অভিযান, সাঁড়াশি অপারেশন ও কঠোর গোয়েন্দা নজরদারি ভবিষ্যতেও সমান তালে অব্যাহত থাকবে। মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে র‍্যাব কোনো অপরাধীকে ছাড় দেবে না বলেও বিজ্ঞপ্তিতে পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

উখিয়ার আঞ্জুমানপাড়া এলাকার দুই মাদক মামলার ফেরারি আসামি ছৈয়দুল বশরকে পালংখালী বাজার থেকে গ্রেফতার করা র‍্যাব-১৫-এর সুনিপুণ গোয়েন্দা নজরদারির এক অনন্য সাফল্য। সীমান্ত অঞ্চলে মাদক সিন্ডিকেটের স্থায়ী অবসান ঘটাতে এই ধরনের ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামিদের দ্রুত আইনি শাস্তির মুখোমুখি করা অত্যন্ত জরুরি।

#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}