কক্সবাজারের রামুতে এক তরুণীকে বিয়ের প্রলোভনে জোরপূর্বক ধর্ষণের মামলার প্রধান আসামি ও মূলহোতা নূরুল ইসলাম নাহিদকে (৩০) গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-১৫ (র্যাব)। মামলা দায়েরের মাত্র ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এক ঝটিকা অভিযান চালিয়ে তাকে আইনের আওতায় আনা হয়।
গতকাল ১২ জুন ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ৮:৫০ মিনিটে রামু থানাধীন রাজারকুল এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত নাহিদ রাজারকুল ইউনিয়নের সিকদার পাড়ার আব্দুস সালামের ছেলে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে প্রেম, অতঃপর প্রতারণা
মামলার এজাহার ও র্যাব সূত্রে জানা যায়, প্রবাসী নূরুল ইসলাম নাহিদের সাথে ভুক্তভোগী তরুণীর সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে পরিচয় হয়, যা পরবর্তীতে প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয়। একপর্যায়ে উভয়ের বিয়ের ব্যাপারে পারিবারিকভাবেও সম্মতি তৈরি হয়। তবে এই সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে নাহিদ বিয়ের মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে ভুক্তভোগীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে একাধিকবার জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে।
সর্বশেষ গত ২৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে কক্সবাজার শহরের একটি আবাসিক হোটেলে নিয়ে ভুক্তভোগীকে পুনরায় প্রতারণামূলকভাবে ধর্ষণ করা হয়। এরপর ভুক্তভোগীকে কোনো প্রকার সামাজিক স্বীকৃতি না দিয়ে কৌশলে দেশ ছেড়ে বিদেশে পালিয়ে যায় আসামি।
সম্প্রতি নাহিদ গোপনে দেশে ফিরে আসলেও ভুক্তভোগী তরুণীকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানায় এবং বিভিন্ন টালবাহানা শুরু করে। এই জঘন্য অপরাধের প্রতিকার ও ন্যায়বিচারের দাবিতে ভুক্তভোগী তরুণী নিজে বাদী হয়ে রামু থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন।
মামলা রুজু হওয়ার পর থেকেই আসামিকে গ্রেফতারের জন্য ছায়া তদন্ত ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে র্যাব-১৫। এরই ধারাবাহিকতায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ১২ জুন রাতে র্যাব-১৫, কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন সদর কোম্পানির একটি চৌকস আভিযানিক দল রামু থানাধীন রাজারকুল রাস্তার ওপর এক সফল অভিযান পরিচালনা করে। ঘটনার মাত্র ৭২ ঘণ্টার মধ্যে মামলার ০১ নম্বর ও মূল আসামিকে গ্রেফতারে সক্ষম হয় তারা।
গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে সংশ্লিষ্ট রামু থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। নারীদের নিরাপত্তা রক্ষা এবং সমাজে এ ধরনের জঘন্য অপরাধ দমনে র্যাবের কঠোর ও আপসহীন অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।