‎কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সীমান্তবর্তী নাফ নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে সিকান্দার আলী (৩৫) নামে এক বাংলাদেশি জেলে নিখোঁজের চার দিন পরও তাঁর কোনো সন্ধান মেলেনি। গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সন্ধ্যার পর থেকে তিনি নিখোঁজ রয়েছেন। এ ঘটনায় তাঁর পরিবারে চরম উদ্বেগ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

‎নিখোঁজ সিকান্দার আলী টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের খারাংগ্যাঘোনা এলাকার বাসিন্দা মকবুল হোসেনের ছেলে।

‎স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর সিকান্দার আলী এবং একই এলাকার বাহাদুর নামে আরেক ব্যক্তি নাফ নদীতে মাছ ধরতে যান। ঘটনার দিন গভীর রাতে বাহাদুর একা ফিরে এলেও সিকান্দার আলী আর বাড়ি ফেরেননি।

‎সিকান্দারের সঙ্গে থাকা বাহাদুর জানান, মাছ শিকারের একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত তাঁরা নাফ নদীর মিয়ানমার সীমান্তঘেঁষা জলসীমায় প্রবেশ করেন। এ সময় মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘আরাকান আর্মি’র সদস্যরা তাঁদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। প্রাণ বাঁচাতে বাহাদুর দ্রুত সাঁতরে বা নৌকা নিয়ে নিজের সীমানায় ফিরে আসতে সক্ষম হলেও সিকান্দার আলী নিখোঁজ হন।

‎নিখোঁজ জেলের ছোট ভাই মুফতি ওমর ফারুক বলেন: “আমার ভাই মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন। ওই এলাকায় গুলির শব্দ শোনা গেছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। তাঁকে মিয়ানমারের কোনো সশস্ত্র বাহিনী ধরে নিয়ে গেছে, নাকি তিনি অন্য কোনো দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন—তা আমরা নিশ্চিত নই। বিষয়টি বিজিবিকে অবহিত করা হয়েছে। আমাদের পরিবারের একটাই দাবি, আমার ভাই জীবিত বা মৃত যেভাবে থাকুক, তাঁকে যেন দ্রুত আমাদের বুকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।”

‎এদিকে পরিবারের সদস্যরা আশঙ্কা করছেন, সিকান্দার আলী আরাকান আর্মির গুলিতে আহত হয়ে নদীতে তলিয়ে গেছেন অথবা তাঁদের হাতে আটক হয়েছেন।

‎এ বিষয়ে উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম জানান, সিকান্দার আলী মাছ ধরতে যাওয়ার আগে বিজিবিকে কোনো তথ্য দেননি। বিজিবি শুক্রবার বিষয়টি জানতে পেরেছে। ঘটনার সত্যতা যাচাই এবং নিখোঁজ জেলের তথ্য সংগ্রহের জন্য বিজিবির পক্ষ থেকে সব ধরনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

‎সীমান্তে এমন উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিখোঁজ জেলের সন্ধান ও তাঁকে ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী।

#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}