‎টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় মানবিক সহায়তা কার্যক্রম জোরদার করেছে ৩৪ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। জেলার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের পূর্ব মুক্তারকুল এবং নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সীমান্তবর্তী তুমব্রু বর্ডার আউটপোস্ট (বিওপি) এলাকায় পৃথকভাবে ত্রাণ বিতরণ করেছে ৩৪বিজিবি। দুই স্থানে মোট প্রায় ১২০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও অসহায় মানুষের হাতে খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়েছে।
‎সোমবার (১৩ জুলাই) কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব মুক্তারকুল এলাকায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৫০টি পরিবারের মাঝে চাল, ডাল, তেল, আলুসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। একই দিনে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার তুমব্রু বিওপির সীমান্তবর্তী এলাকার আরও প্রায় ৬০ জন বন্যাদুর্গত ও অসহায় মানুষের মাঝে জরুরি ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়।

‎স্থানীয়দের ভাষ্য মতে টানা বৃষ্টিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় বহু পরিবার কয়েক দিন ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছে। অনেকের ঘরে রান্না করার মতো পরিবেশ নেই, আবার অনেকে নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করলেও খাদ্যসংকটে ভুগছেন। এমন পরিস্থিতিতে বিজিবির এই সহায়তা দুর্গত মানুষের জন্য তাৎক্ষণিক স্বস্তি এনে দিয়েছে।

‎৩৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম বলেন, “বিজিবি দেশের মানুষের যেকোনো দুর্যোগে পাশে থাকার অঙ্গীকার নিয়ে কাজ করে।কক্সবাজারে বন্যা পরিস্থিতির শুরু থেকেই আমাদের সদস্যরা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আমাদের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। প্রয়োজন অনুযায়ী আরও ত্রাণ বিতরণ করা হবে।”

‎ঝিলংজার এক উপকারভোগী জানান, গত কয়েক দিন ধরে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে চরম কষ্টে দিন কাটছিল। বন্যার পানিতে ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কাজও বন্ধ হয়ে যায়। বিজিবির দেওয়া খাদ্যসামগ্রী অন্তত কয়েক দিনের জন্য তাদের খাদ্যসংকট লাঘব করবে।

‎তুমব্রু এলাকার উপকারভোগীরাও জানান, সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকায় বন্যার কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় বিজিবির দেওয়া সহায়তা তাদের জন্য সময়োপযোগী উদ্যোগ।

‎স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বাসিন্দারা বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবার এখনো পর্যাপ্ত সহায়তা পায়নি।বিজিবির মানবিক উদ্যোগ দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার আহ্বান জানান।

‎বিজিবি সূত্র জানায়, শুধু সীমান্ত নিরাপত্তাই নয়, প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ যেকোনো মানবিক সংকটে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো বাহিনীর অন্যতম দায়িত্ব। বর্তমান বন্যা পরিস্থিতিতেও সেই দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পর্যায়ক্রমে ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}