বিশ্বফুটবলের ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ও জাঁকজমকপূর্ণ আসর ২৩তম ফিফা বিশ্বকাপে প্রাইজমানির সব অতীত রেকর্ড চুরমার হয়ে গেছে। গত রাতে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক ও শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালে লাতিন আমেরিকার পরাশক্তি আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে নতুন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে স্পেন। এই শিরোপা জয়ের মাধ্যমে স্প্যানিশরা মাঠের শ্রেষ্ঠত্বের পাশাপাশি ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অংকের আর্থিক প্রাইজমানি নিজেদের ঘরে তুলেছে। ২৩তম ফুটবল বিশ্বকাপে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুবাদে স্পেন দল ফিফার পক্ষ থেকে নগদ ৫ কোটি মার্কিন ডলার পুরস্কার পেয়েছে, যা বর্তমান বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬১৫ কোটি টাকার সমপরিমাণ।

অন্যদিকে মেগা ফাইনালে স্পেনের কাছে চরম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরে রানার্স-আপ হওয়া গতবারের বিশ্বজয়ী আর্জেন্টিনা দলও বিশাল অংকের অর্থ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছে। রানার্স-আপ ট্রফি অর্জনের পাশাপাশি আলবিসেলেস্তেরা পেয়েছে ৩ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪০৭ কোটি টাকা। আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা ফিফা গত ডিসেম্বরেই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছিল যে, এবারের ২৩তম ফুটবল আসরে রেকর্ড পরিমাণ প্রাইজমানি দেওয়া হবে। সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এবার মোট ৮৭ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলারের বিশাল প্রাইজমানি নির্ধারণ করেছিল ফিফা, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১০ হাজার ৭২৫ কোটি টাকা। এই ঐতিহাসিক অংকটি ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি, যেখানে কাতার আসরের মোট প্রাইজমানি ছিল ৪৪ কোটি ডলার। উল্লেখ্য, ২০২২ সালের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে আর্জেন্টিনা পেয়েছিল ৪ কোটি ২০ লাখ ডলার এবং রানার্স-আপ ফ্রান্স পেয়েছিল ৩ কোটি ডলার।

এবারের আসরে শক্তিশালী দলগুলোর বিদায়ের স্তরে স্তরে বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ রেখেছে ফিফা। টুর্নামেন্টে তৃতীয় স্থান অধিকারকারী ইংল্যান্ড দল পেয়েছে ২ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৫৭ কোটি টাকা। আর চতুর্থ স্থানে থেকে বিশ্বকাপ শেষ করা সাবেক বিশ্বজয়ী ফ্রান্স জিতেছে ২ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৩৩২ কোটি টাকা। কোয়ার্টার ফাইনাল তথা শেষ আট থেকে বিদায় নেওয়া চার শক্তিশালী দল যথাক্রমে মরক্কো, বেলজিয়াম, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের প্রত্যেকে ১ কোটি ৯০ লাখ ডলার বা প্রায় ২৩৩ কোটি টাকা করে আর্থিক পুরস্কার লাভ করবে।

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের শেষ ষোলোর রাউন্ড থেকে বাদ পড়া আটটি দল—প্যারাগুয়ে, কানাডা, পর্তুগাল, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল, মেক্সিকো, মিশর ও কলম্বিয়া প্রত্যেকেই ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার করে পাবে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৮৫ কোটি টাকা। এছাড়া প্রথমবারের মতো প্রবর্তিত শেষ ৩২ দলের রাউন্ড থেকে বিদায় নেওয়া ১৬টি দল যথাক্রমে নেদারল্যান্ডস, জার্মানি, আইভরি কোস্ট, ক্রোয়েশিয়া, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, ডিআর কঙ্গো, ঘানা, ইকুয়েডর, দক্ষিণ আফ্রিকা, Sweden, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, আলজেরিয়া, সেনেগাল ও কেপ ভার্দে প্রত্যেকে পাবে ১ কোটি ১০ লাখ ডলার বা ১৩৫ কোটি টাকা। এমনকি গ্রুপ পর্ব থেকে ছিটকে যাওয়া উরুগুয়ে, ইরান, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, তুরস্ক, স্কটল্যান্ড, সৌদি আরব, চেক প্রজাতন্ত্র, কাতার, কুরাসাও, পানামা, জর্ডান, হাইতি, উজবেকিস্তান, তিউনিসিয়া ও ইরাক দলের প্রত্যেকে সান্ত্বনা পুরস্কার হিসেবে ৯০ লাখ ডলার বা প্রায় ১১০ কোটি টাকা করে পাচ্ছে। এর বাইরে বিশ্বকাপের শুরুতে সব দলের প্রস্তুতিমূলক খরচ বাবদ ফিফা অতিরিক্ত ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার করে অগ্রিম প্রদান করেছিল।

২৩তম ফিফা বিশ্বকাপে স্পেনের শিরোপা জয় ফুটবল বিশ্বে তাদের নতুন সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি তাদের আর্থিক সমৃদ্ধির এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল। ফিফা ঘোষিত ১০ হাজার ৭২৫ কোটি টাকার এই রেকর্ড প্রাইজমানি প্রমাণ করে যে, বিশ্বফুটবলের জনপ্রিয়তা ও বাণিজ্যিক মূল্য বর্তমান সময়ে কোন উচ্চতায় পৌঁছে গেছে।

#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}