Views: 3

প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ লেখে।কিন্তু পড়ে কে?অনেকেই না পড়ে বা ছবি দেখে  লাইক।আর আমার লেখা পড়ার তো পাঠক নেই বললেই চলে।না আছে পদ পদবী,না সাহিত্যক না প্রতিষ্ঠিত লেখক। বই ও লিখি না ,প্রকাশনাও করি না।তাহলে চেনে কে বা জানে কে?আর ফেসবুক এ লিখতে তো টাকাও লাগে না।কাগজ, কলমে র বালাই নাই।যেন তেন ভাবে হযবরল দিয়ে পোস্ট করতে তো প্রেস ও লাগছে না।আবার এটা কোন গরম খবর ও না বা গোপন তথ্য না ,বা প্রেমের চিঠিও না বা অশ্লীল কৌতুক ও না ।তাহলে তো কেউ পড়বে না।এত পুরোই বিব্রত। তাহলে কি লেখা ডিলিট করব ?
থাক নিজে নিজেই পড়ব আর বদন খেলব!
দাঁড়িয়া বান্ধা বা বদন খেলা। গ্রামের খেলা। মজার খেলা। কিন্তু প্রতি ঘর যেতেই বাঁধা দেয় এক জন ।আড়াআড়ি প্রতি ঘরে একজন  ও লম্বা লম্বি সব ঘর বরাবর এক জন ।ভেল্কি বাজি দিয়ে ঘর পাড় হয়ে শেষে র কর্নার ঘর হয়ে আবার সামনের ঘরে ফিরে আসলে বদন খেলা সম্পন্ন হয়।
ঘর পার হতে প্রতি পক্ষ স্পর্শ করলেই সে মরা ।মানে খেলা থেকে বসে পড়বে।আবার চুরি করলে দুই বার বাদ।আবার ঘরের তুলনায় মানুষ বেশি হলে ছোট, মোটা দৌড় কম পারে, ভেল্কি জানে না এমন লোক কে বাদ দেয়।বদন খেলায় বাদ পড়া খুবই খারাপ। হতাশ লাগে।আবার শেষ ঘর মানে বদন ঘরে যেয়ে আর ফিরে না আসলে মানে ছুঁয়ে দিলে সে জীবিত থাকতেই মরা।এভাবে সব খেলোয়াড় মরে গেলে বিপরীত পক্ষ বদন শুরু করে।
বাংলা অর্থ মুখ বা মুখমণ্ডল বা প্রতিচছবি। অর্থাৎ বদনে মরা হলে তার বদন সম্পন্ন না হলে তার বদন  খানি মলিন হয়।
মানুষের জীবন। আশায় ভরা।ভরসা য় বেগবান। চিন্তা পূর্ণাঙ্গ, পরিকল্পনার সাগর।সাফল্যের জন্য কত যে বদনের ঘর পার হতে হয়। শুরু থেকে একে বারে ফিরে আশতে না পারলে মরা হয়ে যেতে হয়।
আর বার বার বদন দিতে না পারলে ভাল যোগ্য তা ,আশা ,চিন্তা ভরসা থাকা সত্বেও বদন খেলায় বাদ পড়তে হয় ।একবার সার্স,হাম,পোলিও,বসন্ত প্লেগ, স্পানিস ফ্লু, এই ভার করোনা।
বদন খেলার মত করোনা ছুঁয়ে দিলে সে মরা।এমন মরাই মরে তার বদন খানি মলিন হয়।এবং সতিকারে মরে গেলে তাকে কেউ মাটিতে রাখার থাকে না।তার জীবন শেষ। বদন হতে বাদ ।
সেই ডিসেম্বর হতে ।থেমে থেমে প্রতিটি ঘর পার হচ্ছে। অনেকেই ছোঁয়া খেয়ে মরে গেছে।গেছে জীবনের তাল,নাচ,ধরন,গতি,আশা ভরসা।
অনেকে হাত ধোয়া শেষ করলেও লাশ ধোয়া কপালে জোটে নাই।ভেল্কি তে হেরে মাটিও পায়নি দুই এক জন।
অনেকে র ছেলে/মেয়ে র শেষ বর্ষের পরীক্ষা হয়নি,চাকুরি র নিয়োগ হয়নি,প্রমোশন হয়নি,কেউ অনেক দিন আপন জন কে দেখে না ,পাওনা টাকা পায় না,অনেকে বহুদিন খিচুড়ি মাংস খায় না।কেউ কেউ আইসক্রিম খেতে পারে না,ফ্রিজের পানি খায় না।
অনেকে গুরু হতে পারেনি,অনেকে শিষ্য থেকে বিতাড়িত, অনেকে র প্রেম বন্ধ, অনেকে জমায়েত এ লেকচার দিতে পারে না।
অনেকে ফুসফুস বদলাতে পারে না,রক্ত বদলাতে পারে না,হার্ট, কিডনি কিনতে পারছে না,ডাক্তার, কবিরাজ, হেকিম বৈদ্য ,দাওয়াখানার সবাই আজ বদন খেলার ছোঁয়া ।সবাই মরা মরা বা বদন খেলায় বাদ।
অনেকে আশাহত, অনেকে ব্যার্থ, দিন দিন অপেক্ষা য় কাতর।অনেকে স্বাক্ষর করতে পারছে না ,অনেকে স্বাক্ষর নিতে পারছে না।সব পেন্ডিং, বিশ্ব ভরা লক ডাউন। তাল লয় যেন তালায় বন্ধী।
বেড়ে ওঠা ,বড় হওয়া, বেঁচে থাকা এ যেন থেমে থেমে বদন খেলা। এক একটি ঘর পার হতেই ছোঁয়া র ভয় ।কবে কি ভাবে কেমন করে বদন হবে সে চিন্তা সবার, সারা পৃথিবীর।
কারন ভেল্কি বাজিতে আর বদন হচ্ছে না হয়ত হবেও না ।