কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্ত এলাকা থেকে ফেনীর বহুল আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর চার অপহরণ মামলার অন্যতম এজাহারনামীয় পলাতক আসামি মিন্টুকে (২৫) গ্রেপ্তার করেছে এলিট ফোর্স র্যাব-১৫। গতকাল শুক্রবার (১৪ আগস্ট ২০২৬) আনুমানিক বিকেল পাঁচটার দিকে টেকনাফ মডেল থানাধীন ঐতিহ্যবাহী হ্নীলা ইউনিয়নের জাদিমুড়া বাজার এলাকায় এক দুঃসাহসিক ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাকে আইনশৃঙ্খলার জালে বন্দি করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত মিন্টু দীর্ঘদিন ধরে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার চোখ ফাঁকি দিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তিক এলাকায় আত্মগোপন করে ছিল।
র্যাব-১৫ সূত্রে জানা গেছে, গোপন ও সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-১৫-এর সিপিসি-১ (টেকনাফ ক্যাম্প)-এর একটি চৌকস আভিযানিক দল গোপন সংবাদের মাধ্যমে নিশ্চিত হতে পারে যে, ফেনী জেলার বহুল আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর চার অপহরণ মামলার এজাহারনামীয় ৭ নম্বর আসামি কক্সবাজারের টেকনাফ থানাধীন জাদিমুড়া বাজারে অবস্থান করছে। প্রাপ্ত তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের পর বিকেলে র্যাবের টিম স্থানটিতে ঝটিকা ও কৌশলী অভিযান চালায় এবং পলায়নের সুযোগ না দিয়ে আসামিকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেপ্তারকৃত মিন্টু (২৫) সীমান্ত জনপদ টেকনাফ মডেল থানার হ্নীলা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের রঙ্গীখালী (জুম্মা পাড়া) এলাকার বাসিন্দা আবুল হাশেমের ছেলে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে র্যাবের আভিযানিক দল জানতে পেরেছে যে, মিন্টুর বিরুদ্ধে ফেনীর অপহরণ মামলা ছাড়াও টেকনাফ মডেল থানায় জোরপূর্বক অর্থ আদায়, চাঁদাবাজি, সাধারণ মানুষের ওপর মারধর ও চুরিসহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধমূলক কাজের সাথে জড়িত থাকার অপরাধে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। সে এলাকার অন্যতম চিহ্নিত অপরাধী হিসেবে পরিচিত ছিল।
অভিযানের ব্যাপারে র্যাব জানায়, দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং চিহ্নিত অপরাধী ও সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনতে র্যাব-১৫-এর আভিযানিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামি মিন্টুকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা ও আইনগত প্রক্রিয়ার স্বার্থে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। একই সাথে ফেনীর সেই আলোচিত চার অপহরণ মামলার মূল রহস্য উদঘাটন এবং এই ঘটনার সাথে জড়িত থাকা অপরাপর আসামিদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে র্যাবের বিশেষ গোয়েন্দা নজরদারি এবং ধারাবাহিক তল্লাশি অভিযান চলমান রয়েছে।
টেকনাফে র্যাবের হাতে ফেনীর চার অপহরণ মামলার পলাতক আসামি মিন্টুর গ্রেপ্তার হওয়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক বিরাট সাফল্য। এ ধরনের সফল ও সাহসী অভিযান সীমান্তবর্তী এলাকায় অপরাধ প্রবণতা কমানোর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মনে স্বস্তি ও বিশ্বাসের পরিবেশ বজায় রাখতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে।