গাজীপুর মহানগরের গাছা থানাধীন ডেগেরচালা এলাকায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিক শরীফ ওমর টুটুলের ওপর নৃশংস হামলার পর শুরু হয়েছে চরিত্র হনন ও সাইবার অপপ্রচার। এজাহারনামীয় মূল আসামিরা এখনো গ্রেপ্তার না হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুরনো ছবি ব্যবহার করে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ ও আসামিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবিতে বুধবার (২৬ আগস্ট ২০২৬) সকাল ১১টায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বোর্ড বাজার ঢাকা ব্যাংকের সামনে আহত সাংবাদিকের পরিবার ও গাছা থানা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে এক বিশাল মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। মানববন্ধনে গাছা থানা প্রেসক্লাবসহ গাজীপুরের বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের শতাধিক সংবাদকর্মী সংহতি প্রকাশ করে অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তারা জানান, গত ১৩ আগস্ট ডেগেরচালা এলাকায় ঝুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে দেশীয় অস্ত্রের মহড়ার ভিডিও চিত্র ধারণ করতে গেলে সন্ত্রাসীরা দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের গাজীপুর প্রতিনিধি ও গাছা থানা প্রেসক্লাবের দপ্তর সম্পাদক শরীফ ওমর টুটুলকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয় এবং এর আগে গত ১৮ আগস্ট পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ কমিশনার বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। কিন্তু রহস্যজনকভাবে এজাহারনামীয় মূল আসামিরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে।

ক্ষোভ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী সাংবাদিক শরীফ ওমর টুটুল বলেন, আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং অপপ্রচার চালাচ্ছে যে তাঁকে তারা টাকা দিয়ে ম্যানেজ করেছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। এছাড়া ৬ বছর আগের আদালতের একটি বিচারাধীন মামলার পুরনো ছবি ব্যবহার করে ফেসবুকে কুৎসা রটানো হচ্ছে। অথচ ওই মামলায় আদালত তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করেননি। আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বদলে তারা সম্মানহানির চক্রান্ত করছে। টুটুলের ছোট ভাই শাহরুখ খৈয়াম মুন্না বলেন, তাঁর ভাই এখনো চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণে আছেন। তাঁকে মাদক ব্যবসায়ী বানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে পুরো পরিবারের সম্মান ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে। তারা এই সাইবার অপরাধ ও হামলার কঠোর বিচার চান।

মানববন্ধনে সমাপনী বক্তব্যে গাছা থানা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ সোহেল মিঞা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ভিডিও ফুটেজ ও নির্দিষ্ট নাম থাকা সত্ত্বেও প্রধান আসামিদের পুলিশ খুঁজে পাচ্ছে না, অথচ অপরাধীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। প্রশাসন যদি দ্রুত এজাহারনামীয় আসামিদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না করে, তবে গাজীপুরের পুরো সাংবাদিক সমাজ কঠোর থেকে কঠোরতর কর্মসূচী ঘোষণা করতে বাধ্য হবে।

উক্ত মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন বাসন থানা প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, জেলা রিপোর্টার্স ক্লাবের সাইফুল আলম চৌধুরী, টঙ্গী রিপোর্টার্স ক্লাবের আশিকুর রহমান, সাংবাদিক নাহিদ সরকার, মোঃ জাকির আলী, মোসাঃ রত্না বেগম, বাসন প্রেসক্লাবের দপ্তর সম্পাদক ফাতেমা আক্তার ও সাংবাদিক সজিবসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। এ সময় গাছা থানা প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ আনিসুল ইসলাম, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ রফিকুল ইসলাম, ক্রীড়া সম্পাদক জাকারিয়া, কোষাধ্যক্ষ সাবরিনা জাহান, সদস্য এমদাদুল হক, মাইনুল ইসলাম ও মুন্নাসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সংবাদকর্মীদের ওপর হামলা এবং পরবর্তীতে চরিত্র হননের চেষ্টা মুক্ত সাংবাদিকতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য বড় হুমকি। গাজীপুরের সাংবাদিক সমাজ যে আল্টিমেটাম দিয়েছে, প্রশাসনের উচিত তা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে এজাহারনামীয় মূল আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সাইবার অপপ্রচারের সুষ্ঠু বিচার সুনিশ্চিত করা।

#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}