রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির নিয়মিত মাসিক সভা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত এই সভায় উপজেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা হয়। মোহনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহিমা বিনতে আখতারের সভাপতিত্বে সভায় এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা, মাদক দমনে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, সার ও কীটনাশকের অবৈধ কারসাজি রোধ, সড়ক আইন বাস্তবায়ন, নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, খেলাধুলার সুপরিবেশ সৃষ্টি এবং বিভিন্ন দাপ্তরিক অভিযোগের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করা হয়।
উক্ত সভায় প্রশাসনিক কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন। সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জোবায়দা সুলতানা, সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম, উপজেলা প্রকৌশলী রকিব হাসান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. রাকিবুল ইসলাম, সমাজসেবা কর্মকর্তা ইমাম হাসান শামীম, মোহনপুর ট্রাফিক বিভাগের ইন্সপেক্টর রবিউল ইসলাম, মোহনপুর থানার এসআই আনোয়ার হোসেন, আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তা ও প্রশিক্ষক শামিউল বাসির, ফায়ার সার্ভিসের লিডার রোজোয়ান মন্ডল, ইউনিয়ন প্যানেল চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম, আমিনুল ইসলাম, আব্দুর রশিদ এবং মোহনপুর মডেল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. শাহীন সাগর সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ।
আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় স্থানীয় কৃষি ও কৃষকের স্বার্থ সুরক্ষায় কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়। বক্তারা জানান, মোহনপুর উপজেলায় পর্যাপ্ত সারের সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও কোনো অসাধু চক্র যদি সার ও কীটনাশক নিয়ে কৃত্রিম সংকট বা কোনো প্রকার কারসাজি করার চেষ্টা করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সাথে সমাজ থেকে মাদক ও বাল্যবিবাহ নির্মূলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের আরও সচেষ্ট ও সক্রিয় ভূমিকা পালনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে দায়িত্ব পালনে কোনো কর্মকর্তার অবহেলা বা গাফিলতি পরিলক্ষিত হলে তাকে কঠোর জবাবদিহিতার আওতায় আনার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। এছাড়া সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর আমরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে উত্থাপিত মাদকাসক্তির অভিযোগ তদন্তে গঠিত কমিটির অগ্রগতি এবং খেলাধুলার সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিতকরণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় বিভিন্ন বিভাগীয় কার্যক্রম ও মামলার বিবরণ উপস্থাপন করা হয়। ইউএনও ফাহিমা বিনতে আখতার জানান, সার ও কীটনাশকের দোকানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দুটি এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে একটি মামলা করা হয়েছে। সহকারী কমিশনার (ভূমি) জোবায়দা সুলতানা জানান, ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আরও চারটি মামলা পরিচালনা করা হয়েছে। অন্যদিকে ট্রাফিক ইন্সপেক্টর রবিউল ইসলাম জানান, সড়ক পরিবহন আইনসহ বিভিন্ন অপরাধে মোট ৮৫টি মামলা হয়েছে; যার মধ্যে রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে ১৬টি, হেলমেট না পরায় ২২টি, ড্রাইভিং লাইসেন্স সংক্রান্ত ২৬টি, ফিটনেস সংক্রান্ত ৯টি এবং অন্যান্য ১২টি মামলা রয়েছে। এছাড়া মোহনপুর থানার এসআই আনোয়ার হোসেন জানান, আগস্ট মাসে থানায় মোট ১৯টি মামলা রুজু হয়েছে, যার মধ্যে মাদক আইনে ৯টি, সড়ক আইনে ৫টি, চুরির ১টি, নারী ও শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত ১টি এবং অন্যান্য আইনে ৩টি মামলা রয়েছে।
মোহনপুর উপজেলা প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থান ও নিয়মিত আইন-শৃঙ্খলা সভা এলাকায় অপরাধ দমন এবং সামাজিক অনাচার প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। সার কারসাজি রোধ ও মাদক নির্মূলে প্রশাসনিক তৎপরতা এবং সমন্বিত পদক্ষেপ অব্যাহত থাকলে উপজেলার সাধারণ জনগণ এর সুফল পাবেন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উত্তরোত্তর উন্নতি সাধিত হবে।