রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, তিনি রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন এবং সার্বিক রাষ্ট্রীয় কল্যাণে সম্পূর্ণ দলনিরপেক্ষ ভূমিকা অবলম্বন করে কাজ করে যাবেন। বঙ্গভবনের দরবার হলে আয়োজিত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে তাঁর প্রথম দরবারে তিনি এই দৃঢ় অঙ্গীকার প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি বলেন, এই মহান দায়িত্বভার গ্রহণের পূর্বেই তিনি তাঁর সকল রাজনৈতিক দলগত সম্পৃক্ততা, জাতীয় সংসদ এবং মন্ত্রীপরিষদ থেকে নিয়মানুগভাবে পদত্যাগ সম্পন্ন করেছেন। ফলশ্রুতিতে তিনি এখন সম্পূর্ণরূপে একজন দলনিরপেক্ষ ব্যক্তিত্ব এবং ভবিষ্যতেও নিষ্ঠার সাথে দলনিরপেক্ষ থেকে তাঁর অর্পিত দায়িত্ব পালন করে যাবেন।
দরবার হলে আয়োজিত উক্ত বিশেষ অনুষ্ঠানে ভাষণ প্রদানকালে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আরও গুরুত্বারোপ করে বলেন, রাষ্ট্র প্রধানের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তাঁর মাঝে কোনো প্রকার রাগ, অনুরাগ বা ব্যক্তিগত পক্ষপাতিত্ব থাকবে না। দেশ, রাষ্ট্র এবং সাধারণ জনগণের সার্বিক স্বার্থ সংরক্ষণই হবে তাঁর কাজের প্রধান ও একমাত্র লক্ষ্য। যেকোনো পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দেশের আপামর জনগণের আস্থা অর্জনসহ কাজের সততা, একাগ্রতা, নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিতকরণের ওপর তিনি বিশেষ জোর প্রদান করেন। একই সাথে তিনি বঙ্গভবনের প্রশাসনিক ও সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে দেশের মাটি ও মানুষের প্রতি গভীর ভালোবাসা, শ্রদ্ধা এবং সর্বোচ্চ আনুগত্য বজায় রাখার উদাত্ত আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি তাঁর ভাষণে বঙ্গভবনের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে স্মরণ করিয়ে দেন যে, এই ভবনটি কেবল একটি প্রশাসনিক কার্যালয় নয়, বরং তা বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও জাতীয় সার্বভৌমত্বের অন্যতম প্রতীক। তাই বঙ্গভবনের গৌরবোজ্জ্বল মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখা সকলের পবিত্র দায়িত্ব। তিনি প্রশাসনিক কার্যক্রমের গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়টিতে বিশেষ জোর দিয়ে বলেন, বঙ্গভবনের দৈনন্দিন কার্যধারা এবং গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত সংক্রান্ত সকল বিষয় অত্যন্ত কঠোরভাবে গোপনীয়তা রক্ষা করে পরিচালনা করতে হবে, যাতে কোনো অবস্থাতেই রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বিঘ্নিত না হতে পারে।
এ সময় রাষ্ট্রপতি সরকারি ব্যয় হ্রাসে সাশ্রয়ী ও দায়িত্বশীল দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ এবং সব ধরনের অপচয় কঠোরভাবে রোধের জোর আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, এ দেশের সাধারণ জনগণের কষ্টার্জিত অর্থেই সকল সরকারি সম্পদ ও সুযোগ-সুবিধা পরিচালিত হয়, ফলে সরকারি সম্পদের ব্যবহারে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা আবশ্যক। একই সাথে তিনি উপস্থিত সকলকে নিজস্ব কর্ম ও ব্যক্তিগত জীবনে সুশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং নৈতিক মনোবল ও আদর্শ চরিত্র গঠনে সচেষ্ট হওয়ার পরামর্শ দেন। ভাষণের একপর্যায়ে তিনি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি স্বাধীন পরবর্তী দেশ গঠন ও রাষ্ট্র পরিচালনায় মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। পাশাপাশি পূর্ববর্তী সকল রাষ্ট্রপতির প্রতিও তিনি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন এবং বঙ্গভবনকে একটি সুসংগঠিত পরিবারের সাথে তুলনা করে সকলকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সম্পূর্ণ দলনিরপেক্ষ থেকে দায়িত্ব পালনের এই ঘোষণা এবং বঙ্গভবনের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও অপচয় রোধের আহ্বান দেশের সুশাসন ও গণতান্ত্রিক চর্চায় একটি ইতিবাচক দিক নির্দেশনা প্রদান করে।