রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার রাইখালী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কারবাড়ীপাড়া থেকে বালুখালী মুখ এলাকা পর্যন্ত চলমান সড়ক নির্মাণকাজের মান ও উপযোগিতা নিয়ে স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। গুঁড়ি গুঁড়ি থেকে মাঝারি ধরনের মুষলধারে বৃষ্টিপাতের মধ্যেও বিরতিহীনভাবে পিচ ও অন্যান্য মিশ্রণ ঢেলে সড়ক নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাওয়ার কারণে নির্মাণসামগ্রীর ব্যাপক অপচয় ঘটছে এবং কাজের স্থায়িত্ব ও মান নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রচণ্ড বৃষ্টির পানি এবং ভিজা রাস্তার ওপর অপরিকল্পিতভাবে সড়ক নির্মাণের বিটুমিন ও অন্যান্য উপকরণের মিশ্রণ ঢালার ফলে তা সড়কের মূল স্তরের সাথে সঠিকভাবে সংযুক্ত হতে পারছে না। উল্টো বৃষ্টির পানির প্রবাহের সঙ্গে মূল্যবান নির্মাণসামগ্রী ধুয়ে-মুছে চারদিকে ভেসে যাচ্ছে। এতে একদিকে যেমন সরকারি অর্থের অপচয় ও ক্ষতি সাধিত হচ্ছে, অন্যদিকে নবনির্মিত এই সড়কের স্থায়িত্ব ও কাঙ্ক্ষিত স্থায়িত্বকাল নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে প্রবল সংশয় ও আক্ষেপের সৃষ্টি হয়েছে।

বাস্তব চিত্র দেখতে সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায় যে, বৈরী আবহাওয়া ও টানা বৃষ্টিপাতের পরও সড়ক নির্মাণকাজ পুরোদমে চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বৃষ্টির পানির প্রবল টানে সদ্য ব্যবহৃত পথনির্মাণ সামগ্রী ও বিটুমিনের মিশ্রণ সড়কের গা বেয়ে ক্ষয়ে ক্ষয়ে সরে যাচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই বৃষ্টিভেজা পিচ রাস্তার স্থায়িত্ব বজায় থাকবে কি না, তা নিয়ে পথচারীদের মধ্যে চরম কৌতুহল ও তীব্র অসন্তোষ লক্ষ করা গেছে। বিশেষ করে এই পথ দিয়ে যাতায়াতকারী সিএনজিচালক, বাসচালক, মোটরসাইকেল আরোহী ও সাধারণ যাত্রীরা এমন প্রতিকূল আবহাওয়ায় পিচঢালাইয়ের ঘটনাকে দায়িত্বজ্ঞানহীন ও হাস্যকর আখ্যা দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

এলাকার বাসিন্দারা স্পষ্টভাবে জানান যে, জনস্বার্থে এবং সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি একান্ত প্রয়োজন। কারণ সরকারের যাবতীয় উন্নয়ন বাজেট সাধারণ জনগণের করের টাকায় গঠিত হয়। ফলে কাজের উপযোগী সময়, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি এবং নির্মাণসামগ্রীর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও কর্তৃপক্ষের নৈতিক দায়িত্ব।

স্থানীয়দের বিনীত দাবি, সড়ক নির্মাণে দায়িত্বরত উপ-সহকারী ও নির্বাহী প্রকৌশলীসহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যেন কাজের তদারকি জোরদার করেন। তারা চান যেন নির্ধারিত গুণগত মান ও সরকারি কারিগরি নির্দেশিকা অক্ষরে অক্ষরে মেনে কাজ সম্পন্ন করা হয়। বৃষ্টিপাতের কারণে কাজের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকলে সাময়িকভাবে ঢালাই কাজ স্থগিত রেখে পরবর্তীতে আবহাওয়া সম্পূর্ণ অনুকূলে এলে পুনরায় কাজ শুরুর জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাধারণ জনগণ।

পাহাড়ি অঞ্চলে যোগাযোগের উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও বৃষ্টির মধ্যে তড়িঘড়ি করে নিম্নমানের ঢালাই কাজ দীর্ঘমেয়াদে সড়কটিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলবে। অপচয় রোধ ও টেকসই যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও সঠিক তদারকি নিশ্চিত করা জরুরি।

#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}