কক্সবাজারের উখিয়ায় নাফ নদীতে মাছ শিকারের সময় মাইন বিস্ফোরণে গুরুতর আহত জেলে বদিউল আলমের পাশে এখনো পর্যন্ত কোন সরকারি সহযোগিতা না পেলেও দাঁড়িয়েছে পালংখালী ইউনিয়ন বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

‎শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকালে পালংখালী ইউনিয়ন বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে অসহায় ও আহত বদিউল আলমকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। এ সময় তার চিকিৎসা ও পরিবারের খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতেও পাশে থাকার আশ্বাস দেন নেতাকর্মীরা।

‎বদিউল আলমের হাতে আর্থিক সহায়তা তুলে দেন পালংখালী ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মো. শাহ আলম, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হোসেন মনু ও ১ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সদস্যসচিব হাবিবুর রহমান অপিল।

‎এ ছাড়া কৃষক দলের পক্ষ থেকেও তাকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত থেকে সহযোগিতা তুলে দেন পালংখালী উখিয়া উপজেলা কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক কাশেম ইকবাল মিশু, ইউনিয়ন কৃষক দলের আহ্বায়ক রওশন আলী ও সদস্যসচিব দিলদার মিয়া।

‎পালংখালী ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মো. শাহ আলম বলেন, বদিউল আলম পেশায় একজন জেলে। তবে দলের দুঃসময়ে তিনি নেতাকর্মীদের সঙ্গে রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন। বর্তমানে তিনি ইউনিয়ন যুবদলের সহ-মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক। মাইন বিস্ফোরণে তার একটি পা কেটে ফেলতে হয়েছে। পালংখালী ইউনিয়ন বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে তাকে আর্থিক সহযোগিতা করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও তার ও তার পরিবারের পাশে আমরা বিএনপি পরিবার থাকব বলে আশ্বাস দেন তিনি।

‎পালংখালী ইউনিয়ন কৃষক দলের আহ্বায়ক রওশন আলী বলেন, বদিউল আলম ও তার পরিবার জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী। দীর্ঘদিন ধরে তিনি দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তার বর্তমান অবস্থায় তারা খুবই মর্মাহত। সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও দলের সিনিয়র নেতাদের বদিউল আলমের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

‎মাইন বিস্ফোরণে পা হারানো বদিউল আলম বলেন, ‘আমাদের বাপ-দাদার পেশা জেলে। নাফ নদীতে মাছ শিকার করেই আমরা সংসার চালাই। এ ছাড়া অন্য কোনো পেশার সঙ্গে আমি জড়িত নই। এই দুর্ঘটনায় আমার পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এখন পরিবার নিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় আছি। কীভাবে সংসার চালাব, তা বুঝতে পারছি না। এ অবস্থায়  আমি দলের সঙ্গে ছিলাম বলেই দলের ভাইয়েরা আজ আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।’

‎পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ আগস্ট নাফ নদীতে মাছ শিকার করতে গিয়ে মাইন বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হন বদিউল আলম। বিস্ফোরণে তার শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর আঘাত লাগে। পরে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে দীর্ঘ ২৩ দিন চিকিৎসা শেষে গত ২৮ আগস্ট তিনি বাড়িতে ফিরেন।

‎পা হারিয়ে কর্মক্ষমতা হারানো বদিউল আলম বর্তমানে পরিবার-পরিজন নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। তার চিকিৎসা ও পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়ে সহযোগিতার জন্য সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি  ও সরকারি, বেসরকারি সংস্থা কোন সংস্থা এগিয়ে আসেননি। তিনি এবং তার পরিবারের আহ্বান জানান, সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা কামনা করেন।

#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}