কক্সবাজারের সীমান্ত এলাকায় মাদকের জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন ও ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে উখিয়ায় এক বিশাল ইয়াবার চালান জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (৬৪ বিজিবি)। বিজিবির একাধিক আভিযানিক দল সীমান্ত অঞ্চল ও প্রধান সড়কের পৃথক চার স্থানে বিশেষ সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে মোট ২ লাখ ৯৪ হাজার পিস নিষিদ্ধ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। এই সমন্বিত অভিযানে দুই মাদক কারবারিকে হাতেনাতে আটক করার পাশাপাশি মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি পর্যটকবাহী ‘চাঁদের গাড়ি’ (জিপ) এবং একটি সাধারণ নৌকা জব্দ করেছে বিজিবি জোয়ানরা।

বিজিবি সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, শুক্রবার (০৪ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ২টার দিকে উখিয়া ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ পালংখালী বিওপির একটি বিশেষ টহল দল সীমান্তবর্তী আঞ্জুমানপাড়ার ফাইসা খাল সংলগ্ন স্থানে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে কৌশলগত অবস্থান নেয়। সে সময় মিয়ানমার সীমান্ত থেকে জেলের ছদ্মবেশ ধারণ করে হাতে মাছের ঝুড়ি নিয়ে এক ব্যক্তিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে দেখা যায়। লোকটি কাছে পৌঁছালে বিজিবি সদস্যরা তাকে থামার জন্য চ্যালেঞ্জ জানান। বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে চতুর পাচারকারী পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া করে তাকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে মোঃ ইমরান (৩৪) নামের ওই পাচারকারীর সাথে থাকা মাছের ঝুড়ি তল্লাশি করে খাকি রঙের প্যাকেটে মোড়ানো ৫০ হাজার পিস ইয়াবা, একটি বাটন মোবাইল ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়। আটক ইমরান উখিয়ার বালুখালী নলবুনিয়া গ্রামের মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে খারাংখালী বিওপির বিএসপি পোস্ট এলাকায় মিয়ানমার থেকে অনুপ্রবেশের চেষ্টাকালে দুই পাচারকারীকে ধাওয়া করে বিজিবি। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে ধাওয়া খেয়ে তারা দুটি পোটলা ফেলে রেখে দ্রুত সীমান্ত অতিক্রম করে মিয়ানমারের দিকে পালিয়ে যায়। পরে বিজিবি সদস্যরা ফেলে যাওয়া পোটলা দুটি উদ্ধার ও তল্লাশি করে ভেতরে লুকানো ২ লাখ পিস ইয়াবা জব্দ করে।

একই দিন বিকেলের দিকে শীলখালী চেকপোস্টে টেকনাফ থেকে কক্সবাজারগামী একটি পর্যটকবাহী ‘চাঁদের গাড়ি’ থামালে বিজিবির প্রশিক্ষিত স্নাইফার ডগ ‘হেনরি’র সহায়তায় নিবিড় তল্লাশি চালানো হয়। ডগ স্কোয়াডের সুনির্দিষ্ট সংকেতের ভিত্তিতে গাড়িটির স্টিয়ারিংয়ের নিচে অত্যন্ত অভিনব কায়দায় লুকানো ৪ হাজার পিস ইয়াবাসহ চালক মোঃ ওমর ফারুক (১৯)-কে আটক করা হয় এবং চাঁদের গাড়িটি জব্দ করা হয়। অভিযুক্ত ওমর ফারুক কক্সবাজার সদরের পিএমখালী এলাকার অধিবাসী।

এছাড়া সীমান্ত সংলগ্ন পূর্ব ক্যারেঙ্গাঘোনা এলাকায় মাঝির ছদ্মবেশে আসা এক ইয়াবা পাচারকারী বিজিবির সজাগ উপস্থিতি অনুধাবন করে নদী তীর থেকে মিয়ানমারের দিকে সাঁতরে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে টহল দল তার ফেলে যাওয়া খালি নৌকাটিতে তল্লাশি চালিয়ে কাঠ ও পাটাতনের নিচ থেকে আরও ৪০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে এবং নৌকাটি জব্দ করে।

আটককৃত দুই মাদক কারবারিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা স্বীকার করে যে, মিয়ানমার ও টেকনাফ সীমান্ত অঞ্চল থেকে অত্যন্ত কম দামে ইয়াবার এই বড় চালানগুলো সংগ্রহ করে পরবর্তীতে কক্সবাজার শহরসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় শহরে চড়া দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।

এই বিশাল অভিযান ও মাদক জব্দের সত্যতা নিশ্চিত করে উখিয়া ব্যাটালিয়নের (৬৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোঃ জহিরুল ইসলাম জানান, সীমান্ত এলাকায় যেকোনো ধরনের অবৈধ মাদকের অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান সম্পূর্ণ রুখে দিতে বিজিবির কঠোর গোয়েন্দা তদারকি ও টহল জোরদার করা হয়েছে। মাদকের সাথে জড়িত এই চক্রের মূল হোতা ও নেপথ্যের চোরাকারবারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের সহযোগিতায় বিজিবির তল্লাশি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে। আটক আসামিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে সীমান্তরক্ষী বাহিনী ৬৪ বিজিবির এই চৌকস ও বহুমুখী অভিযান সীমান্ত সুরক্ষায় অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ডগ স্কোয়াড ও গোয়েন্দা তথ্যের সঠিক ব্যবহারে বিশাল ইয়াবার চালান ভেস্তে যাওয়ায় দেশের আইনশৃঙ্খলা ও তরুণ সমাজ সুরক্ষায় ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে পড়বে।

#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}