কক্সবাজারের উখিয়া সীমান্তে অপরাধ দমন ও মাদকবিরোধী জিরো টলারেন্স নীতির অংশ হিসেবে এক সফল অভিযান পরিচালনা করে ৪০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মোঃ কামাল (৩৩) নামের এক চিহ্নিত মাদক কারবারিকে হাতেনাতে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (৬৪ বিজিবি)। বিজিবির আভিযানিক দলের বিচক্ষণতা ও সতর্ক অবস্থানের কারণে সীমান্ত পারাপারের এই বড় ধরনের মাদক চোরাচালানের চেষ্টা সম্পূর্ণ ভেস্তে গেছে।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) গভীর রাতে উখিয়া ব্যাটালিয়নের (৬৪ বিজিবি) অধীনস্থ বালুখালী বিওপির একটি বিশেষ আভিযানিক টহল দল সীমান্ত সংলগ্ন কাটাপাহাড় এলাকার শাহজাহানের ঘের নামক স্থানে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে এই ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করে। বিজিবি সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, আটককৃত মোঃ কামাল উখিয়া থানাধীন বালুখালী জমিদারপাড়া গ্রামের অধিবাসী কবির আহমেদের ছেলে।

ঘটনার বিশদ বিবরণ প্রদান করে বিজিবি সূত্র জানায়, মিয়ানমার সীমান্ত অঞ্চল থেকে একদল চোরাকারবারি বিপুল পরিমাণ মাদকের চালান নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা চালাচ্ছে—এমন একটি সুনির্দিষ্ট ও গোপন গোয়েন্দা তথ্য পান বালুখালী বিওপির টহল দলের সদস্যরা। উক্ত খবরের ভিত্তিতে বিজিবি সদস্যরা কালবিলম্ব না করে উখিয়ার কাটাপাহাড় শাহজাহানের ঘের এলাকায় আড়াল নিয়ে কৌশলগত অবস্থান গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে রাত আনুমানিক ৮টার দিকে মায়ানমার সীমান্ত এলাকা অতিক্রম করে এক ব্যক্তিকে চরম সতর্কতার সাথে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে দেখেন বিজিবি সদস্যরা।

সন্দেহভাজন ব্যক্তিটি কাছাকাছি পৌঁছালে বিজিবির চৌকস দল তাকে লক্ষ্য করে থামার জন্য চ্যালেঞ্জ জানায়। তবে বিজিবির স্বশরীরে উপস্থিতি টের পেয়ে উক্ত ব্যক্তি সাথে থাকা মালামালসহ দ্রুত কৌশলে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। সে সময় বিজিবি সদস্যরা তাকে চারদিক থেকে ধাওয়া দিয়ে ঘটনাস্থল থেকেই জাপটে ধরে আটক করতে সক্ষম হন। আটক করার পর উপস্থিত সাক্ষীদের উপস্থিতিতে তার দেহ ও সঙ্গে থাকা মালামাল তল্লাশি করা হয়। তল্লাশিকালে তার হাতে থাকা একটি কালো পলিথিনে মোড়ানো খাকী প্যাকেটের ভেতর থেকে বিশেষ কৌশলে রাখা নীল রঙের ৪টি প্যাকেটে মোট ৪০,০০০ (চল্লিশ হাজার) পিস ক্ষতিকারক ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার ও আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়।

আটককৃত মোঃ কামালকে ঘটনার পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে বিজিবির কাছে সরাসরি স্বীকার করেছে যে, সীমান্ত পার হয়ে মায়ানমার এলাকা থেকে অত্যন্ত কম মূল্যে এই বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট ক্রয় করে সংগ্রহ করেছিল। পরবর্তীতে দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা মাদক কারবারিদের কাছে চড়া দামে বিক্রি করে অবৈধ মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যেই সে এগুলো বহন করছিল।

এই সফল অভিযান ও বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দের সত্যতা সুনিশ্চিত করে উখিয়া ব্যাটালিয়নের (৬৪ বিজিবি) অধিনায়ক জানান, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি যেকোনো ধরনের মাদকদ্রব্য অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান সম্পূর্ণ নির্মূল করতে বিজিবির প্রতিটি সদস্য সর্বোচ্চ সতর্ক ও কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই চালানের পেছনের মূল সরবরাহকারী, অর্থদাতা ও নেপথ্যের কারবারীদের সঠিকভাবে সনাক্ত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য সীমান্ত জুড়ে বিজিবির নিজস্ব গোয়েন্দা নজরদারি ব্যাপকভাবে জোরদার করা হয়েছে। আটককৃত আসামির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার প্রক্রিয়া বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সীমান্ত দিয়ে ক্ষতিকর ইয়াবা ও মাদকের অনুপ্রবেশ বন্ধে ৬৪ বিজিবির এই সময়োপযোগী ও জোরালো অভিযান অত্যন্ত প্রশংসনীয়। সীমান্ত রক্ষীদের এমন কঠোর ও নিরবচ্ছিন্ন নজরদারি অব্যাহত থাকলে দেশের যুবসমাজকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।

#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}