কক্সবাজারের সীমান্তবেষ্টিত টেকনাফ উপজেলায় এক বিশেষ ও সাহসিক অভিযান পরিচালনা করে আনুমানিক কয়েক কোটি টাকা মূল্যমানের ৩ কেজি ক্রিস্টাল মেথ (আইস) উদ্ধার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব-১৫)। সীমান্ত পার হয়ে আসা ভয়াল এই মাদকের চালান জব্ধ করার বিষয়টি শনিবার (০৫ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সরকারি প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন র‍্যাব-১৫ এর সহকারী পরিচালক (ল’ অ্যান্ড মিডিয়া) সহকারী পুলিশ সুপার আ. ম. ফারুক।

র‍্যাবের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সুনির্দিষ্ট গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত শুক্রবার (০৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিটে র‍্যাব-১৫, সিপিসি-১ (টেকনাফ ক্যাম্প)-এর একটি বিশেষ আভিযানিক দল একটি তাৎপর্যপূর্ণ তথ্য পায়। আভিযানিক দলটি জানতে পারে যে, টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত শাহপরীর দ্বীপ মাঝের ডেইল এলাকায় জনৈক খামিন মাঝির বসতবাড়ির পাশে কতিপয় মাদক কারবারি বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য কেনাবেচার উদ্দেশ্যে গোপন অবস্থান গ্রহণ করেছে।

প্রাপ্ত সুনির্দিষ্ট খবরের ভিত্তিতে গভীর রাতে আনুমানিক ১টা ১০ মিনিটে র‍্যাবের চৌকস দল উক্ত স্থানে অভিযান চালাতে পৌঁছায়। এ সময় এলাকাটিতে র‍্যাব সদস্যদের উপস্থিতি ও কৌশলগত অবস্থান টের পেয়ে ধূর্ত মাদক ব্যবসায়ীরা একটি প্লাস্টিকের ব্যাগ ফেলে রেখেই রাতের অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে র‍্যাব সদস্যরা স্থানীয় নিরপেক্ষ সাক্ষীদের উপস্থিতিতে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধারকৃত প্লাস্টিকের ব্যাগটি নিয়ম অনুযায়ী তল্লাশি করেন। ব্যাগটির ভেতর থেকে ১ কেজি করে মোট ৩টি অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল প্যাকেট উদ্ধার করা হয়। চায়ের প্যাকেটের আদলে তৈরি প্যাকেটগুলোর গায়ে “GUANYINWANG” লেখা ছিল এবং সেগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে নিখাদ ৩ কেজি ক্রিস্টাল মেথ (আইস) জব্দ করা হয়।

অভিযান শেষে র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক তথ্যে উঠে এসেছে যে একটি সুচিহ্নিত ও সংগঠিত মাদক কারবারি চক্র দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী মায়ানমার সীমান্ত ব্যবহার করে অত্যন্ত গোপনে এই মারাত্মক ও নতুন প্রযুক্তির মাদক দেশে নিয়ে আসছিল। পরবর্তীতে এসব চালান কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তরুণ সমাজের হাতে ছড়িয়ে দেওয়া হতো। উদ্ধারকৃত কোটি টাকার এই আইসের চালান পরবর্তী আইনি আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। একই সাথে এই ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত ও পলাতক আসামিদের দ্রুত সনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে র‍্যাবের গোয়েন্দা নজরদারি এবং বিশেষ চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদকের প্রবেশের বিরুদ্ধে র‍্যাবের এই ধরনের কঠোর ও ধারাবাহিক অভিযান দেশের যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষার ক্ষেত্রে অত্যন্ত প্রশংসনীয়। টেকনাফ ও সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা গেলে এমন ভয়াল আইস চোরাচালান সম্পূর্ণ নির্মূল করা সম্ভব হবে।

#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}