Views: 0

শ্রীপুর উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের সফল নার্সারী ব্যবসায়ীর গল্প

স্টাফ রিপোর্টারঃ নাজমুল ইসলাম

গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের বেলদিয়া গ্রামের আব্দুল মজিদ ৩০ বছর যাবৎ নার্সারি ব্যবসা করে আসছেন। বৃক্ষের প্রতি প্রেম তাকে এই ব্যবসায় নিয়ে এসেছে। এখন তিনি গাজীপুর জেলার একজন সফল নার্সারি ব্যবসায়ী।

প্রথম জীবনে তিনি কাঁঠের চারা দিয়ে ব্যাবসা শুরু করেন । সেখান থেকেই তিনি ফুল ও ফলজ গাছের চারার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে এই পেশায় কাজ করে যাচ্ছেন।আব্দুল মজিদের ছেলে আব্দুল আল মামুন পিতার এই কাজে উৎসাহিত হয়ে দীর্ঘ ১৫ বছর যাবত পিতার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন সফলতার সাথে।

উল্লেখ্য ৩০ বছর পূর্বে কোন একদিন নিজ বাড়িতে সখের বসে কাঁঠ গাছের চারা উৎপাদন করা শুরু করেন। তারপর তিনি লক্ষ্য করে দেখলেন, অনেক মানুষ তার কাছ থেকে পেঁপের চারা কিনতে আসেন। এরপর তিনি পেঁপের চারার প্রতি আকৃষ্ট হয় এবং ধীরে ধীরে পেঁপের চারার উৎপাদন বৃদ্ধি করলেন এবং নার্সারি ব্যবসার দিকে ঝুঁকে পড়েন।

শ্রীপুরে বেলদিয়া গ্রামে নিজ বাড়ির পাশেই পতিত জমিতে মাত্র সাত হাজার টাকা মূলধন নিয়ে নার্সারি ব্যবসা শুরু করেন, বর্তমানে নাম দেয়া হয় মামুন এন্ড মাসুম নার্সারি। নিজ বাড়ির পাশে ১০ কাঁটা প্রায় ৭০ শতাংশ পতিত জমি নিয়ে নার্সারি করেন।

বর্তমানে কাওরাইদ রেল স্টেশনের দক্ষিনে পল্লী বিদ্যুৎ অফিস এর সামনে তার বৃক্ষময় উদ্যানসম নার্সারি। বিভিন্ন রকম বাহারি ফুল ও ফল গাছ দিয়ে সাজানো এই নার্সারী নজর কেরেছে অনেকের।

 

নার্সারীতে বারোমাসি কাঁঠালের কলম চারা, উন্নত জাতের শরিফা, আলু বোখরা, রাম বোটাম, ডরিয়ন, থাই সফেদা, স্ট্রবেরী পেয়ারা, ডেইয়া ফল, বেরাকাটা পেয়ারা, ড্রাগন ফল,পেপে চারার মধ্যে রেট রেডী, টপ রেডী, সুইটি, এনান্জি,রেড কুইন,বাবু,সুইট হানী,সুইট লেডী,অসংখ্য চারা রয়েছে
মরিচের মধ্যে আছে প্যাপসিক্যাপ, চাপাই,কুবাই,ফেট পাইসি,নাগা মরিচ,উক্তা,ইত্যাদি ফলের চারার মাঝে আছে মাল বেরী,লকটন,কমলা,
মালটা,আম,লেচু, লাল জামবুরা প্রিন্ট কাঁঠাল, রেড কাঁঠাল, লাল মিস্টি তেতুল,রাম ভুটান তেতুল এভা কাটু,লেবু,থাই সেবন লেবু,কলম্ব লেবু,চায়না পিট নেস, বাতাবী লেবু

মসলার মধ্যে লং, এলাচি,চুইঝাল,গুল মরিচ, দারুচিনি, তেজ পাতা, বড়ুই বল,সুন্দরি, মাতৃ গাছ সহ বিভিন্ন জাতের ফলজ গাছের চারা উৎপাদন করে আসছেন আব্দুল আল মামুন।এছাড়াও বিভিন্ন জাতের মসলা জাতীয় গাছের চারা এবং বাহারি ফুলের চারা উৎপাদন করা হয় মামুন এন্ড মাসুম নার্সারিতে। এমনকি বিলুপ্ত প্রায় ঔষধি ফলগাছের চারা লাভলাভ লুকলুকি এখানে উৎপাদন করা হয়।

আব্দুল মজিদ ও তার ছেলে আব্দুল আল মামুন বলেন গাজীপুর ও ময়মনসিংহ জেলা থেকে আসা বিভিন্ন এলাকার মানুষজন আমাদের এই মামুন এন্ড মাসুম নার্সারি থেকে বাহারি ফুল ও ফল এবং মসলা জাতীয় গাছ কিনে নিয়ে যান। এছাড়াও শহরের বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষজন আসেন এই নার্সারি থেকে গাছের চারা কিনতে।

বৃক্ষের প্রতি আব্দুল আল মামুনের প্রেম আজ তাকে একজন সফল নার্সারি ব্যবসায়ী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তার সফলতা থেকে শ্রীপুরে অনেক বেকার যুবকেরা নিজেদের সম্পৃক্ত করেছেন নার্সারী ব্যবসায়।

আব্দুল আল মামুন আরও বলেন, প্রতি বছর নার্সারীতে ১৫ থেকে ১৬ লক্ষ টাকা খরচ করে বছরে আয় প্রায় ৭ থেকে ৮ লক্ষ টাকা। বর্তমানে আমার নার্সারীতে ৫ লক্ষ টাকার বিভিন্ন জাতের ফুল ও ফলজ জাতের চারা রয়েছে।