Views: 5
গাজীপুর মহানগর প্রতিনিধি।
গাজীপুর মহানগরের তারগাছ এলাকায় অদৃশ্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক কিশোরকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যায় ঘটনাস্থলের পাশেই একটি ভবনের ছাদে, মোবাইলে গেমস খেলছিলো, শাকিল (১৭) ও মোঃ ফাহিম (১৪), সন্ধ্যা ৭ টার দিকে শাকিলের মোবাইলে একটি কল আসে, ডাকা হয় তাকে একটি রাস্তার পাসে, সেখানে যেতেই কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করা হয় ওই যুবককে ।
নিহতের নাম মোঃ শাকিল। সে স্থানীয় আহসানউল্লাহ মাস্টার উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর ছাত্র। সে ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর থানার দিতপুর গ্রামের মোঃ এজাজুল ইসলামের ছেলে।বর্তমানে সে মহানগরের তারগাছ এলাকার রুবেল মোল্লার বাড়িতে বাবা-মায়ের সাথে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছিল।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত হাবিবুল্লাহ নামে ১ জনকে আটক করেছে জিএমপির গাছা থানা পুলিশ।
গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ ইসমাইল হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানা, এটি আমাদের পর্যবেক্ষণে রয়েছে। আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি মাদক সংক্রান্ত ঘটনার জেরে ওই হত্যাকাণ্ড হতে পারে ।প্রথমে যদিও বলা হয়েছিল গেমস খেলাকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। কিন্তু পরবর্তীতে এলাকাবাসীর বক্তব্য ও প্রাথমিক তদন্তে মাদকের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার মোঃ ইলতুৎমিস জানান, গেম খেলাই হোক আর মাদকই হোক সবগুলো বিষয় নিয়ে পুলিশ কাজ করছে। তদন্ত সাপেক্ষে ইনশাল্লাহ আসল সত্য বেরিয়ে আসবে।
> এদিকে এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত হাবিবুল্লা এই নির্মম হত্যাকান্ডের সাথে সরাসরি জড়িত। সে ওই এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসী। চাঁদাবাজি,টেন্ডারবাজি সহ মাদক কেনাবেচা সবকিছুতেই তার সম্পৃক্ততা রয়েছে।হাবিবুল্লাহ সহ তাদের রয়েছে এলাকায় এক বিরাট কিশোর গ্যাং বাহিনী। এই ঘাতক হাবিবউল্লাহর বিরুদ্ধে রয়েছে গাছা থানায় দুটি মাদক মামলাও।
> এলাকায় নতুন বাড়ি করলে তাদেরকে চাঁদা না দিয়ে সে বাড়ি ঘর করা সম্ভব হয় না। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে আর এসবের মূলে রয়েছে স্থানীয় কাউন্সিলর সাইফুল ইসলাম দুলাল এর ছেলে মোহাম্মদ সাব্বির হোসেন।এই সাব্বির হোসেন এর সাথে রয়েছে গ্রেপ্তারকৃত হাবিবুল্লাহ সহ তার বাহিনীর দহরম-মহরম সম্পর্ক।
কাউন্সিলর সাইফুল ইসলাম দুলাল ও তার ছেলের দাপট দেখিয়ে গ্রেপ্তারকৃত হাবিবুল্লাহ ও মামলার অপর আসামিরা এলাকায় এমন কোন অপরাধমূলক কাজ নাই যা তাদের দ্বারা সংঘটিত হয়নি।
> এ বিষয়ে কাউন্সিলর সাইফুল ইসলাম দুলাল জানান, অপরাধের সাথে আমাদের কোন আপোষ নেই। আমরা অপরাধীকে ঘৃণা করি। আমরা চাই অপরাধীর সাজা হোক।আর এ ব্যাপারে অবশ্যই আমরা আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সহযোগিতা করতে চাই।
আর এ ব্যাপারে তার ছেলের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান,হাবিবুল্লা এলাকার ছেলে হিসেবে হয়তো চলাফেরা করত কিন্তু আমার ছেলে কোন অন্যায় কে প্রশ্রয় দেয়নি, দিতে পারেনা।
> অপরদিকে নিহত স্কুলছাত্র শাকিলকে তার কর্মী হিসেবে দাবি করছেন সাবেক ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা রাশেদুজ্জামান জুয়েল মন্ডল। তিনি জানান, শাকিল আমার কর্মী ছিল। মাদক কেনাবেচা দেখে ফেলায় এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীরা নির্মমভাবে তাকে হত্যা করে। আমি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এ হত্যাকাণ্ডের সঠিক বিচার চাই। মঙ্গলবার বিকেলে জুয়েল মন্ডল তার বাসায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা বলেন, কিন্তু এ সময় সেখানে নিহতের পরিবারের কাউকেই দেখা যায়নি।
উল্লেখ্য সোমবার রাতে মহানগরের তারগাছ এলাকায় বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায় এবং দুর্বৃত্তদের এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে মারাত্মকভাবে আহত হয় স্কুলছাত্র শাকিল (১৭) ও ফাহিম (১৪)।পরে তাদের আত্মচিৎকারে এলাকাবাসী ছুটে আসে এবং আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে শাকিল মারা যায়।
> এ ঘটনায় মারাত্মক আহত তার সহপাঠী স্কুলছাত্র ফাহিম (১৪) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি ছুরি ও তিনটি লোহার রড উদ্ধার করেছেন।
> এদিকে এ ঘটনাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার ও এর থেকে ফায়দা লুটতে চায় এলাকার দুটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহল তারা একে অপরকে দোষারোপ করে ঘটনা ভিন্ন দিকে রূপ দেয়ার চেষ্টা করছে।
> এদিকে এলাকাবাসী দাবি করেছেন, এ ঘটনাকে যেন রাজনীতির কালো থাবায় অসুস্থ রাজনীতিকরা ভিন্নদিকে প্রবাহিত করতে না পারে সেজন্য অবশ্যই প্রশাসনকে সুদৃষ্টি রাখতে হবে।
> এই নির্মম হত্যাকান্ডের সাথে যারাই জড়িত থাকুক। তাদের রাজনৈতিক পরিচয় যাই থাকুক, আর তারা যতই প্রভাবশালী থাকুক, তাদেরকে যেন অবশ্যই আইনের আওতায় এনে সঠিক বিচারের সম্মুখীন করা হয় এমনটাই প্রত্যাশা করেছেন এলাকাবাসী।
(চলবে)