Views: 4

মোজাহিদুল,কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি-

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে সত্তরর্ধ এক বিধবা দারিদ্রের কষাঘাতে বাধ্য হয়ে গবাদী পশুর সাথে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন।’জমি আছে ঘর নেই প্রকল্প’র একটি ঘর পাবার আশায় স্হানীয় এক নেতাকে দূ’বছর আগে ভিক্ষাবৃত্তির ১৫ হাজার টাকা উৎকোচ দিলেও বিধবা নুরজাহানের ভাগ্যে মেলেনি সরকারি ঘর।

বিধায় অভাবের তারণায় বাধ্য হয়েই পশুর সাথে বসবাস করতে হচ্ছে নুরজাহান বেগমকে।ঘর দেয়ার কথা বলে টাকা আত্মসাতকারী নেতার পরিচয় দিয়ে অভিযোগ করলেও ভয়ে ঐ নেতার পরিচয় পত্রিকায় প্রকাশে অনিচ্ছুক বিধবা নুরজাহান।এ বিষয়ে প্রতারিত বিধবা নুরজাহান বেগম ঘর না পেয়ে টাকা ফেরত চেয়ে এলাকার বিভিন্ন ব্যাক্তির কাছে অভিযোগ করেও এখনো টাকা ফেরত পায়নি বলে জানা গেছে।

যার ভিডিও ক্লিপ প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। হৃদয় বিদারক অমানবিক এ ঘটনাটি ঘটেছে ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউপির পশ্চিম দেবত্তর (চকিদারপাড়া) গ্রামে।খোঁজ নিয়ে জানা যায়-নুরজাহানের স্বামী মোস্তাফিজার ২০ বছর আগে অসুস্হ্য জনিত রোগে মারা গেছে। স্বামী মারা যাওয়ার পর একটা সময় অন্যের কাজ করলেও এখন আর বয়সের ভারে কাজ করতে পারেনা।পাড়া প্রতিবেশীর সাহায্য সহযোগীতার উপর নির্ভরশীল তার জীবন। তিন সন্তানের জননী তিনি। দুই মেয়ে এক ছেলে,মেয়ে দুটির বিয়ে হয়েছে অনেক আগেই।  তারা স্বামীর বাড়িতে অবস্হান করছে। একমাত্র ছেলে নজরুল ইসলাম দিনমজুর।দিন আনে দিন খায়,কাজ চললে পেটে ভাত,কাজ না চললে উপবাস।

বিধবার বাড়িতে জরাজীর্ণ দূটি ঘর। একটি ঘরে বসবাস করে ছেলে ও ছেলের বউ,নাতি,নাতনি। অন্য গোয়াল ঘরটির এক কোনে বিধবার বিছানা অন্যদিকে খর বিছানো গরুর থাকার জায়গা। গোয়াল ঘরে একটি গরুর বাছুর নিয়ে এভাবেই মানবেতর জীবন যাপন করছেেন। অনাহারে-অর্ধাহারে বৃষ্টির পানিতে ভিজে রোদে পুড়ে ভাঙ্গা ঘরের এক কোণে চলছে বসবাস।সামান্য ঝড়ো হাওয়ায় ঘটতে প্রাণহানির মত দূর্ঘটনা।

বিধবা নুরজাহান কান্নাজনিত কন্ঠে বলেন,মোর একনা থাকার ঘর চাং বাহে,জীবনের বাকি দিন কয়টা আরাম করি শুতি থাকপার চাং। মোর বাপে মোক ৮ শতক জমি দিছে। সেই জায়গাত একটা ছাপড়া ঘর করে এক পাকে গরুর বাছুর,আর এক পাকে মুই থাকোং। চেয়ারম্যান মেম্বারও কোন কার্ড টাড দেয়না। মরার আগে মাথা গুজার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি ঘর চেয়ে  আকুল আবেদন করেন বিধবা নূরজাহান।এ বিষয়ে ৩নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য হারুন বলেন- ইতিপূর্বে নুরজাহানের নামে বিধবা ভাতার কার্ড করে দেয়া হয়েছে। আগামিতে সরকারি অনুদান এলে তার জন্য সাহায্য সহযোগীতার ব্যবস্হা করা হবে।