Views: 4
রিপোর্টার রমজান আলী রুবেল:
গাজীপুরের শ্রীপুরে টাকা চুরির অপবাদ দিয়ে মো. আলমগীর হোসেন (১৪) নামের কিশোরকে নির্মমভাবে নির্যাতন করেন উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের মো. দুলাল মিয়ার দুই ছেলে মো. কাজল মিয়া (৩৫) ও মো. লিটন মিয়া (২৫)। গত ১৬ অক্টোবর সকাল ৭টার দিকে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়ন নয়াপাড়া গ্রামে এ চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।
নির্যাতনের শিকার কিশোর আলমগীর হোসেন বলেন।
মো. কাজল মিয়া প্রথমে আমাকে ব্যাপক মারধর করে। এর কিছুক্ষণ পর দুই নম্বর বিবাদী মো. লিটন মিয়া রশি দিয়ে আমার হাত পা বেঁধে আগুনের ভেতর লোহার রড গরম করে প্রথমে হাতে ও পরে শরীরের বিভিন্ন অংশে প্রায় ৫০ টিরও বেশি সেঁকা দেয়।
একপর্যায়ে চোখের ভেতর গরম রড দিয়ে সেঁকা দেওয়ার চেষ্টা করে। হাতে পায়ে ধরে, বাবা ডেকেও তাঁদের অমানবিক নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা পায়নি আমি। একপর্যায়ে অজ্ঞান হয়ে পড়লে নির্যাতনের মাত্রা কমে যায়।
আমার শরীরে পানি দিয়ে গোপন অঙ্গে কয়েকটি ছ্যাকা দেয়। এরপর টাকা চুরি না করেও টাকা চুরির কথা মুখ দিয়ে শিকার না করার জন্য ওরা আমার মুখেও গরম রডের সেঁকা দেয়। এরপর টাকা চুরির কথা শিকার করলে তাঁরা আমার হাত পায়ের বাঁধন খুলে দেয়।’ শ্রীপুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মো. আলমগীর হোসেন (১৪) এভাবেই বর্ণনা করছিল তাঁর সঙ্গে হওয়া নির্মম নির্যাতনের ঘটনা।
এ ঘটনায় নির্যাতনের শিকার মো.আলমগীরের বাবা বাদী হয়ে দু’জনকে অভিযুক্ত করে,
১৭ অক্টোবর রাত ১১:৩০ টার দিকে শ্রীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মো. আলমগীর হোসেন উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের ডুমবাড়িচালা গ্রামের মো. সুলতান সরকারের ছেলে।
৫৩ হাজার টাকা চুরির অভিযোগে দুই যুবক মিলে তাঁকে নির্যাতন করে। নির্যাতনের শিকার মো. আলমগীরের বাবা বলেন, বেলা ১১টার সময় অভিযুক্তরা ফোন করে বলে আপনার ছেলে টাকা চুরি করেছে। টাকা চুরির কথা স্বীকার করেছে। আপনি ৩৫ হাজার টাকা নিয়ে এসে ছেলেকে নিয়ে যান। এরপর টাকা না নিয়ে অভিযুক্তদের বাড়িতে পৌঁছানোর পর টাকা না আনার আগ পর্যন্ত ছেলেকে দিবে না বলে জানায়। একপর্যায়ে স্থানীয় কয়েক জনের হাতে পায়ে ধরে টাকা দেওয়ার শর্তে ছেলেকে নিয়ে আসি। একদিন ভয়ে বাসায় ছেলের চিকিৎসা করি। এরপর স্থানীয় ইউপি সদস্যকে ঘটনার বিস্তারিত বলার পরই বিচার চাওয়ার সাহস পাই।