Views: 0
হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ছিলেন না, নার্স দিয়ে সিজারিয়ান অপারেশনে প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার পর স্বজনেরা এসে হাসপাতালে ব্যাপক ভাঙচুর চালান। এ সময় ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। প্রসূতির মৃত্যুর পরপরই হাসপাতালের মালিকপক্ষ, চিকিৎসক ও নার্স পালিয়ে গেছেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশের বেশ কিছু সদস্য এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।
রাজিয়া জানান, তাঁর মেয়ের নবজাতক শিশুপুত্র ও ইকরা নামে ১০ বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে।
প্রসূতির মামা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, রাত সাড়ে ৯টায় দিকে হাসপাতালে গিয়ে দেখেন হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে অ্যাম্বুলেন্সে মরদেহ রাখা। এরপর হাসপাতালে প্রবেশ করে দেখেন কর্তব্যরত চিকিৎসক, নার্স ও মালিকপক্ষ পালিয়ে গেছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা কয়েক শতাধিক মানুষ শান্তিপূর্ণ ভাবে হাসপাতালে এসে অবস্থান নিয়েছি। যতদূর জানতে পারছি, সিজারিয়ান অপারেশন হয়েছে সে সময় হাসপাতালে কোনো বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ছিলেন না। ডাক্তার ছাড়া নার্স দিয়ে সিজারিয়ান অপারেশন করার কারণে আমার ভাগনি মারা গেছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এই হাসপাতালে এর আগেও অনেক মানুষের মৃত্যু হয়েছে।’
লাইফ কেয়ার হাসপাতালের ব্যবস্থাপক মো. পারভেজ হোসেনের ব্যক্তিগত ফোন নম্বরে কয়েকবার কল করা হলে নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। হাসপাতালে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি।
শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এনায়েত কবির জানান, হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশের বেশ কিছু সদস্য এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে। স্বজনদের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। হাসপাতালে এসে কর্তৃপক্ষের কাউকে পাওয়া যায়নি। সবাই পালিয়ে গেছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন।
রাত ১২টার পর শ্রীপুরের নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শোভন রাংসা হাসপাতালে উপস্থিত হন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, হাসপাতালের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।