Views: 5

মোঃ আব্দুল হান্নান, হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি ॥

হবিগঞ্জে ভুয়া জামিনপত্রে কারাগার থেকে ছাড়াপেলেন মাদক মামলার ৪ আসামী। গত ৬ জানুয়ারি হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলায় ৩৫ কেজি গাঁজাসহ র‌্যাবের হাতে ধরা পড়েন ৪ মাদক কারবারি। এরপর তাদের বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা দেওয়া হয়। পরে আদালতের মাধ্যমে তাদেরকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। যার মামলা নং জিআর ১০/২৫। উক্ত মাদক মামলার আইনজীবি ফয়সল সংশ্লিষ্ট আদালতে বেশ কয়েকবার তাদের জামিন আবেদন প্রার্থনা করেন। কিন্তু আদালত তাদের জামিন আবেদন না মঞ্জুর করেন।

গত ২৬ জানুয়ারি তাদের পুনরায় আদালতে জামিন আবেদন করা হয়। তবে আদালত তাদের জামিন না মঞ্জুর করেন। গত বুধবার (২৯ জানুয়ারি) তারা জামিনে বের হয়ে যান। বিষয়টি জানতে পেরে (৩০ জানুয়ারি) বৃহস্পতিবার সংশ্লিষ্ট মামলার আইনজীবি ফয়সল আদালতে যান। সেখানে গিয়ে তিনি নিশ্চিত হন তার আসামিরা ভূয়া জামিন নামা তৈরী করে জিআরও অফিসের মাধ্যমে জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়। পরে তারা কারাগার থেকে ছাড়া পেয়ে পালিয়ে যায়। ভুয়া জামিন নামা দিয়ে বের হওয়া মাদক মামলার আসামীরা হল- সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলার শিমুলগঞ্জ গ্রামের আব্দুল কদ্দুছ মিয়ার ছেলে রুয়েল মিয়া, একই উপজেলার কিরণ মিয়ার ছেলে আলী হোসেন, জগন্নাথপুর উপজেলার পাগলা গ্রামের সজলু মিয়ার ছেলে আজাদ মিয়া ও শান্তিগঞ্জ উপজেলার কিরগাও গ্রামের লেবু মিয়ার ছেলে সুয়েব মিয়া। বিষয়টি নিয়ে আদালত পাড়ায় বইছে সমালোচনার ঝড়।

হবিগঞ্জ কোর্ট ইন্সপেক্টর (ওসি) নাজমুল হোসেন বলেন, বিষয়টি জানার পর থেকেই আমরা খোঁজ খবর নিয়ে দেখছি। কে জামিন নামা দিল আবার কিভাবে সেটা কারাগারে গেল বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে আমরা খতিয়ে দেখছি। তিনি বলেন- পুরো বিষয়টি জানার পর আপনাদের জানাতে পারব। এছাড়াও এ ঘটনায় জিআরও অফিসের কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধেও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

এ বিষয়ে মামলার আইনজীবি ফয়সল জানান, উল্লেখিত আসামীদের ম্যাজিস্ট্রেট ও জজ কোর্টে জামিন আবেদন করেও জামিন পাইনি। পরবর্তীতে আমি হাইকোর্টে কাগজপত্র পাঠাতে চাইলে তার স্বজনরা জানান হাইকোর্টে কাগজপত্র পাঠানোর কোন প্রয়োজন নেই। আমাদের লোকজন জামিন নিয়ে বের হয়ে গেছে। এ বিষয়টি জানার পর আমি হতভম্ব হয়ে পরি। পরবর্তীতে খোঁজ নিয়ে দেখি ভুয়া জামিন নামা তৈরী করে জিআরও অফিসের মাধ্যমে তা কারাগারে পাঠানো হয়। পরে তারা হবিগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে বের হয়ে যায়।

এ ব্যাপারে হবিগঞ্জ জেলা কারাগারের জেল সুপার মো. মুজিবুর রহমান জানান, প্রতিদিনের মত আদালত থেকে বিভিন্ন মামলার আসামীদের জামিননামা আসে আমাদের কাছে। সেই অনুযায়ী আসামীরা ছাড়া পায়। তবে এ ঘটনার জামিননামাটি ভুয়া ছিল কি না আমাদের জানা নেই।