Views: 4

সিলেটের সদর উপজেলার মোকামগুল এলাকায় নির্বিচারে চলছে টিলা কাটার মহোৎসব, যা পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর অভিযান চালিয়ে টিলা কাটার কাজে ব্যবহৃত ৪টি গাড়ি আটক করলেও, পরবর্তীতে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পরিবেশকর্মীরা। অভিযোগ উঠেছে, এই সুযোগে পরিবেশ ধ্বংসের প্রক্রিয়া এখনও অব্যাহত রয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরেই মোকামগুল এলাকায় এক শ্রেণির প্রভাবশালী ব্যক্তি অবৈধভাবে টিলা কেটে মাটি বিক্রি করে আসছে। এর ফলে একদিকে যেমন প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে বাড়ছে ভূমিধসের ঝুঁকিও। স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে সম্প্রতি পরিবেশ অধিদপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী একটি যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। এই অভিযানে টিলা কাটার কাজে ব্যবহৃত ৪টি মাটি বহনকারী গাড়ি জব্দ করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট কয়েকজনকে আটক করা হয়।

ব্যবস্থা গ্রহণে অনীহা ও পরিবেশের ওপর প্রভাব

অভিযানের পর স্থানীয় জনমনে কিছুটা স্বস্তি এলেও, পরবর্তীতে দেখা যায় আটককৃত গাড়িগুলোর বিষয়ে কোনো আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাব এবং আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে গাড়িগুলো দ্রুতই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে টিলা কাটার সাথে জড়িত ব্যক্তিরা পুনরায় তাদের অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় পরিবেশকর্মীরা বলছেন, যদি আটককৃতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হতো, তাহলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ প্রবণতা কমে আসতো।

সিলেট অঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অন্যতম উপাদান হলো এর উঁচু টিলাগুলো, যা বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা ও জীবজন্তুর আবাসস্থল। নির্বিচারে টিলা কাটার ফলে এসব গাছপালা উজাড় হচ্ছে, যা জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি। এছাড়া, টিলা কাটার কারণে বৃষ্টির পানি সহজে নেমে যেতে না পারায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে এবং বিশেষ করে বর্ষাকালে ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়ছে।

 

পরিবেশবাদীদের দাবি ও প্রত্যাশা

পরিবেশবাদীরা দ্রুত টিলা কাটা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, পরিবেশ আইন প্রয়োগে শৈথিল্য দেখালে দেশের পরিবেশ ও প্রতিবেশ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে। তারা সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন, টিলা কাটার সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হোক এবং পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের নির্দেশনা দেওয়া হোক। একইসাথে, জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এই অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধে সম্মিলিত প্রচেষ্টা জরুরি বলেও তারা মনে করেন।