Views: 5

বগুড়ার ধুনট উপজেলা সদর থেকে গোসাইবাড়ি পর্যন্ত সড়কটি এখন জনসাধারণের জন্য এক মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ তিন বছর আগে সংস্কার করা এই ১১ কিলোমিটার সড়কের বেশিরভাগ অংশের কার্পেটিং উঠে গেছে, এবং অসংখ্য ছোট-বড় গর্তে ভরে আছে। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের অভিযোগ ও গণমাধ্যমের বারবার সংবাদ প্রকাশের পরও সড়কটি সংস্কারে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন বছর আগে সড়কটি সংস্কার করা হয়েছিল এবং এটি কমপক্ষে চার বছর পর্যন্ত টেকসই থাকার কথা। কিন্তু নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের কারণে সড়কটি অল্প দিনেই বেহাল দশায় পরিণত হয়। এছাড়াও, এলাকাবাসীর অভিযোগ, অতিরিক্ত বালুবাহী ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে সড়কটির দ্রুত ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা বিল্পব হোসেন আক্ষেপ করে বলেন, “আমাদের গ্রামের পাশ দিয়ে যাওয়া এই রাস্তা যেন আমাদের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রশাসনের কাছে বারবার বলেও কোনো ফল হয়নি।”

ধুনট-গোসাইবাড়ি সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ চলাচল করে, যার মধ্যে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও সাধারণ যাত্রী অন্যতম। ভাঙাচোরা এই সড়কে ইজিবাইকে যাতায়াত করতে ভয় পান শিক্ষার্থীরা। গোসাইবাড়ি কলেজের শিক্ষার্থী তোফায়েল আহমেদ জানান, ইজিবাইকগুলো এতটাই হেলেদুলে চলে যে মনে হয় যেকোনো সময় কাত হয়ে পড়ে যাবে। বাসচালক বাচ্চু ও স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম ভেটু তালুকদার এবং এনামুল বারী বুলবুল মাষ্টার বলেন, “সড়কের পিচ উঠে অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এই অবস্থা চলায় গর্তগুলো এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। এতে যানবাহনের মেরামত-ব্যয়ও অনেক বেড়ে গেছে।” বৃষ্টি হলে এই দুর্ভোগ আরও বাড়ে, কারণ গর্তগুলোতে পানি জমে কাদাপানিতে একাকার হয়ে যায়।

এই সড়কটি নিয়ে বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকা ও অনলাইন নিউজ পোর্টালে বহুবার সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে এবং একাধিকবার মানববন্ধন কর্মসূচিও পালিত হয়েছে। কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, এই প্রতিবাদ-বিক্ষোভের কোনো ফল হয়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের ধুনট উপজেলা প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম সড়কের বেহাল দশার কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, “সড়কটি দ্রুত মেরামতের জন্য বরাদ্দ চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু বরাদ্দ পেতে বিলম্ব হওয়ায় কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। তবে বরাদ্দ পেলেই দ্রুত মেরামতকাজ শুরু করা হবে।”

স্থানীয়রা এই আশ্বাসকে যথেষ্ট মনে করছেন না। তারা বলছেন, শুধুমাত্র আশ্বাসে নয়, দ্রুত এই রাস্তাটির সংস্কার করে তাদের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।