Views: 5

যানবাহনে অগ্নিসংযোগ ও ককটেল নিক্ষেপের মাধ্যমে জীবনহানির চেষ্টা রুখতে সরাসরি গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। তিনি জানিয়েছেন, এই নির্দেশনা আইন অনুযায়ী দেওয়া হয়েছে।

 

রোববার বিকেলে বেতার বার্তায় ডিএমপি কমিশনার এই নির্দেশ দেন বলে তিনজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিশ্চিত করেছেন। এর মাত্র পাঁচ দিন আগে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনারও একই ধরনের নির্দেশনা দিলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছিল।

 

জানতে চাইলে ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন, “আমি ওয়্যারলেসে বলেছি যে কেউ বাসে আগুন দিলে, ককটেল মেরে জীবনহানির চেষ্টা করলে তাকে গুলি করতে। এটা আমাদের আইনেই বলা আছে।” ডিএমপির একজন উপকমিশনার এই নির্দেশনার ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, যদি কেউ পুলিশের ওপর ককটেল মেরে মোটরসাইকেলে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে যেন গুলি করে হলেও তাকে থামানো যায়। তিনি আরও বলেন, এই নির্দেশনা পুলিশ সদস্যদের মনোবল চাঙ্গা করার জন্য দেওয়া হয়েছে, কারণ অতীতে রাজনৈতিক জ্বালাও-পোড়াওয়ের সময় পুলিশ অন্যতম ‘টার্গেট’ হয়েছিল।

কর্মকর্তারা এই নির্দেশনার আইনি ভিত্তি হিসেবে দণ্ডবিধির ৯৬ থেকে ১০৬ ধারাগুলো উল্লেখ করেন, যেখানে আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকারের কথা বলা হয়েছে। দণ্ডবিধির ৯৬ ধারায় বলা আছে, “ব্যাক্তিগত প্রতিরক্ষার অধিকার প্রয়োগকালে কৃত কোনকিছুই অপরাধ নহে।”

 

জুলাই অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মামলার রায় আগামীকাল সোমবার (১৭ নভেম্বর) ঘোষণার দিন ধার্য করা হয়েছে। এই রায়কে ঘিরে কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা থাকা আওয়ামী লীগ ১০ থেকে ১৩ নভেম্বর বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে এবং রায় ঘোষণার দিন অনলাইনে দুই দিনব্যাপী ‘কমপ্লিট সাটডাউন’ ঘোষণা করেছে।

এই কর্মসূচি ঘিরে ১০ নভেম্বর থেকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বাসে-ট্রেনে আগুন দেওয়া ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে আসছে। শনিবার রাত থেকেই ঢাকাসহ কয়েকটি স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের কমিশনার হাসিব আজিজ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের গুলি করে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এর পরদিন মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) সিএমপি কমিশনারের এই সিদ্ধান্তে উদ্বেগ জানিয়ে বলেছিল, দেশের সংবিধান যেকোনো নাগরিকের জীবনের অধিকার নিশ্চিত করে। সন্দেহভাজন অপরাধীকেও আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া হত্যা বা গুলি চালানোর নির্দেশ ‘কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়’।