Views: 4
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলাকে জুলাই অভ্যুত্থান নস্যাৎ করার গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ উল্লেখ করে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা জানিয়েছেন, এই অভ্যুত্থানকে নস্যাৎ করার সকল প্রচেষ্টা রুখে দিতে তাঁরা ঐক্যবদ্ধ অবস্থানে রয়েছেন।
রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস-এর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এক জরুরি বৈঠকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)’র নেতৃবৃন্দ এই প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ওসমান হাদির ওপর হামলা পূর্ব-পরিকল্পিত ও গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ এবং এর পেছনে বিরাট শক্তি কাজ করছে। তিনি সতর্ক করেন, ষড়যন্ত্রকারীদের উদ্দেশ্য হচ্ছে নির্বাচনটি না হতে দেওয়া। তিনি বলেন, “এই আক্রমণটি খুবই সিম্বলিক। তারা তাদের শক্তি প্রদর্শন করতে চায়।
নির্বাচনের সব আয়োজন ভেস্তে দিতে চায়। এগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলা করতে হবে।” তিনি আরও যোগ করেন, “এখন পর্যন্ত যে তথ্য পাওয়া গেছে, তাতে মনে হচ্ছে ষড়যন্ত্রকারীরা তাদের নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করেছে। তারা প্রশিক্ষিত শুটার নিয়ে মাঠে নেমেছে।” বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ ও মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের এবং আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।
ওসমান হাদির ওপর হামলার পরিপ্রেক্ষিতে সর্বদলীয় প্রতিবাদ সভা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজনৈতিক দলগুলো, যা আগামী দু-একদিনের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে। নেতারা ফ্যাসিবাদ বিরোধী রাজনৈতিক ঐক্যে যাতে ফাটল না ধরে, সেজন্য দলগুলোর মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর জোর দেন। বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “এ পরিস্থিতিতে আমাদের অবশ্যই ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। যে কোনো অবস্থাতেই পরস্পরের দোষারোপ থেকে বিরত থাকতে হবে।” তিনি জোর দেন, “ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে আওয়াজ তুলতে হবে।
কোনো ধরনের অপশক্তিকে আমরা বরদাস্ত করব না।” তিনি আরও বলেন, জাতির স্বার্থে এবং জুলাইয়ের স্বার্থে রাজনৈতিক মতবিরোধ থাকা সত্ত্বেও ঐক্যবদ্ধ থাকতেই হবে। জামায়াত নেতা গোলাম পরওয়ার স্বীকার করেন, সাম্প্রতিক সময়ে নানা বক্তব্যে একে অন্যকে দোষারোপ করার প্রবণতা বাড়ায় বিরোধীরা সুযোগ পেয়েছে। তিনি ক্ষুদ্র দলীয় স্বার্থ ত্যাগ করে ঐক্যবদ্ধ থাকার এবং জাতিকে বিভক্ত করে এমন কথা বলা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। এনসিপি প্রধান নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকেই কিছু লোক এটিকে খাটো করার জন্য নানা অপতৎপরতা চালাচ্ছে। তিনি বলেন, সুসংগঠিতভাবে জুলাইয়ের বিরুদ্ধে ক্যাম্পেইন চলছে এবং মিডিয়া ও প্রশাসনের নানা স্তরে এই কাজ হচ্ছে। তিনি জুলাই অভ্যুত্থানকে সবাইকে ‘ওউন’ করার এবং অনৈক্য পরিহার করার আহ্বান জানান।
আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল রাজনৈতিক দলগুলোকে দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় স্বার্থের বিষয়ে সজাগ থাকার এবং ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। প্রধান উপদেষ্টা দলগুলোকে নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব পরিহার করে আক্রমণ করার সংস্কৃতি থেকে সরে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “নির্বাচনের সময় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়, তবে মাথায় রাখতে হবে—এটি যেন একটি নির্দিষ্ট মাত্রার মধ্যে নিয়ন্ত্রণে থাকে।” এছাড়া, নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান কঠোরভাবে পরিচালনার ওপর জোর দিয়েছেন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।