Views: 5
নীলফামারী-৪ আসনের জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী সিদ্দিকুল আলমের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে ভোট কেনার উদ্দেশ্যে টাকা বিতরণের অভিযোগ তুলে প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের প্রতিরোধকে ‘মব’ হিসেবে অপপ্রচার এবং প্রশাসনের নির্লিপ্ততার বিচার দাবিতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১টায় সৈয়দপুর প্রেসক্লাবে ‘সচেতন নাগরিক সমাজ’-এর ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সৈয়দপুর শহর শাখার আমীর শরফুদ্দিন খান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন শহর আমীর মাওলানা ওয়াজেদ আলী।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন উপজেলা জাতীয় পার্টির সাবেক সভাপতি ও সদ্য বিএনপিতে যোগদানকারী ঠিকাদার জয়নাল আবেদীন, এনসিপির উপজেলা আহ্বায়ক কমিটির সিনিয়র নেতা আনোয়ারুল ইসলাম মানিক, পৌর আহ্বায়ক জাবেদ আত্তারী ও সাংবাদিক জাকির হোসেন। এ সময় সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট এস এম ওবায়দুল হক, সাধারণ সম্পাদক শাহিন আকতার ও প্রচার সম্পাদক আবু সরকার সংহতি প্রকাশ করেন। এছাড়া বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে সৈয়দপুর শহরের নতুন বাবুপাড়া শহীদ বদিউজ্জামান সড়কে জাপা প্রার্থীর নির্বাচনী অফিসে আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে টাকা বিতরণ করা হয়। খবর পেয়ে স্থানীয় কয়েকজন যুবক প্রতিবাদ জানালে সেখানে অবস্থানরত ব্যক্তিরা মোটরসাইকেলে করে দ্রুত সরে যান এবং অফিসের গেট ভেতর থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়।
পরে বিষয়টি প্রশাসন ও সংবাদকর্মীদের জানানো হলে সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। অভিযোগ অনুযায়ী, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেহদী ইমাম মোবাইল কোর্ট ও পুলিশসহ ঘটনাস্থলে এলেও প্রথমে অফিসে প্রবেশ না করে চলে যেতে চাইলে উপস্থিত লোকজন তাকে থামিয়ে তল্লাশির দাবি জানান। তবে এ সময় গেট খোলার আগে ভেতরে থাকা ব্যক্তিরা সরে যান বলে অভিযোগ করা হয়।
প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষার পরও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় উপস্থিতদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে সেনাবাহিনীর একটি দল ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লাঠিচার্জ করলে ২০-২৫ জন আহত হন বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়। পরে ম্যাজিস্ট্রেট অফিসে তল্লাশি চালান।
এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেহদী ইমাম সাংবাদিকদের জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে তল্লাশি চালানো হলেও সেখানে কাউকে বা কোনো টাকা পাওয়া যায়নি। তবে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে প্রার্থীর পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। অভিযান বিলম্বিত হওয়ার বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, এর আগেও একই প্রার্থীর বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে বক্তারা সৈয়দপুর থানার ওসি ও এসিল্যান্ডের অপসারণ দাবি করেন। অন্যথায় নির্বাচন বর্জনের মতো সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হতে পারেন বলেও জানান তারা। একই সঙ্গে কালো টাকার প্রভাব রোধে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও নির্বাচন কমিশনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।