Views: 5
পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট ভাঙতে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখতে ফরিদপুরে ব্যাপক বাজার মনিটরিং ও মোবাইল কোর্ট কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) ফরিদপুর জেলার কোতোয়ালি থানাধীন জনবহুল চকবাজার এলাকায় এই বিশেষ অভিযান চালানো হয়। ভোক্তা অধিকার নিশ্চিত করতে এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে পণ্যের দাম রাখতে স্থানীয় প্রশাসনের এই উদ্যোগে সিপিসি-৩, র্যাব-১০, ফরিদপুর ক্যাম্প সর্বাত্মক সহযোগিতা ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে।
অভিযান চলাকালীন চকবাজারের বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা কাঁচাবাজার, মুদি দোকান এবং ফলের আড়তে তল্লাশি চালানো হয়। মোবাইল কোর্টের বিচারকগণ পণ্যের মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করা, অতিরিক্ত মূল্যে পণ্য বিক্রয় এবং মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য মজুত রাখার দায়ে বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ীকে সতর্ক করেন এবং আইন অনুযায়ী জরিমানা প্রদান করেন। রমজান মাসে ভোজ্য তেল, চিনি, ডাল, ছোলা এবং খেজুরের মতো অতি প্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ব্যবসায়ীদের কঠোর নির্দেশনা প্রদান করা হয়। বাজার মনিটরিংয়ের সময় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, কৃত্রিম সংকট তৈরি করে পকেট কাটার চেষ্টা করলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
অভিযানে র্যাব-১০ এর সদস্যরা বাজার এলাকায় জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিরলস কাজ করেন। র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জনস্বার্থে এবং ভোক্তাদের অধিকার রক্ষায় র্যাব সর্বদা সতর্ক ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, রমজান মাসে মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়ে অতি মুনাফা লাভের চেষ্টা থেকে বিরত থাকতে হবে। পাশাপাশি সাধারণ ক্রেতাদেরও আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত পণ্য কেনা বা মজুত না করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
বাজারের সাধারণ ক্রেতারা প্রশাসনের এই তৎপরতাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তারা জানান, নিয়মিত এমন তদারকি চললে অসাধু ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ানোর সাহস পাবে না। ফরিদপুর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুরো রমজান মাস জুড়ে চকবাজারসহ জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বাজারে এ ধরনের মোবাইল কোর্ট ও তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। বাজারের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে প্রশাসনের গোয়েন্দা নজরদারিও বৃদ্ধি করা হয়েছে।
পবিত্র রমজান মাসে সাধারণ মানুষের স্বস্তি ফেরাতে ফরিদপুর জেলা প্রশাসন ও র্যাবের এই যৌথ অভিযান একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ। অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে এমন কঠোর অবস্থান বজায় থাকলে দ্রব্যমূল্য সাধারণের নাগালের মধ্যে থাকবে এবং ভোক্তা অধিকার পুরোপুরি সংরক্ষিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।